প্রশাসনে রদবদল, গণগ্রেপ্তার বন্ধ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা বাতিলসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এ সব দাবি নিয়ে শনিবার বিকালে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বরাবর পৃথক ৫টি চিঠিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপনের পাশাপাশি বেশ কিছু দাবি করে দলটি।
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সুষ্ঠু কোন নির্বাচনের ন্যূনতম কোন পরিবেশ এখন নেই। দিন দিন এ পরিবেশের অবনতি ঘটছে। সরকার যেভাবে তাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে চলেছেন নির্বাচন কমিশন সেটা রোধ করতে সক্ষম হচ্ছেন না।
বিএনপি দু’টি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা দেশব্যাপী পুলিশি অভিযান চলছে। সকল নির্বাচনী এলাকায় গণগ্রেপ্তার চলছে, প্রতি রাতে অভিযান চলছে। আমাদের নেতাকর্মী, যাদের ওপর নির্ভর করে আমরা নির্বাচন করবো, তারা কেউ বাড়িতে থাকতে পারে না। আজকে এর কোন প্রতিকার নাই। এরই মধ্যে আমাদের সাতজন প্রার্থী যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মওদুদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জামিন পাওয়া প্রায় মুশকিল হয়ে গেছে এখন। বিচারিক আদালত এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। বেগম খালেদা জিয়া আজকে দারুণভাবে অসুস্থ, আপনারা দেখেছেন সর্বোচ্চ আদালত যেখানে তাকে জামিন দিয়েছে কিন্তু নিম্ন আদালত মানে বিচারিক আদালত তাকে নানা অজুহাতে আটকে রেখেছে, আমরা এখনও তাকে মুক্ত করতে পারি নাই। আরেকটি বিষয়ের ওপর আমরা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষেণর চেষ্টা করেছি। সেটি হলো-সরকারের সাজানো প্রশাসন। যেই পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসনের ওপর আজকে নির্বাচন নির্ভর করছে কারণ যেহেতু আজকে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোন কর্মকর্তা নাই, কোন প্রতিনিধি নাই। এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রিটার্নিং অফিসার বা ডেপুটি কমিশনার যিনি এ সরকারের একজন চাকুরে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার তিনিও একজন ইউএনও, তিনি সরকারের একজন কর্মকর্তা। তারা মেইনস্ট্রিম ব্যুরোক্রেসিতে বিলং করেন। একই রকমভাবে পুলিশ প্রশাসনও। পুলিশ সুপার এবং থানার ওসিরা এই চারজন কর্মকর্তা কার অধীনে কাজ করেন, সরকারে অধীনে কাজ করেন। দেশে এখন একটি রাজনৈতিক সরকার বিদ্যমান, সমস্ত মন্ত্রীরা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছেন। ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছেন, প্রভাবিত করতে পারছেন বিভিন্নভাবে।
মওদুদ বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখন না বলাই ভালো। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোনদিন এ অবস্থায় অর্জন করা সম্ভব হবে না। তবে ন্যূনতম যে দুইটা জিনিস নির্বাচন কমিশন করতে পারতেন সেটা হল, গণগ্রেপ্তার, অভিযান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করা বন্ধ করতে পারতেন তাহলে কিছুটা পরিবেশ আমাদের জন্য সুবিধাজনক হতো, নির্বাচনে ইফেক্টিভলি অংশগ্রহণ করার জন্য।
আরও পড়ুন: এরশাদ ভোটের মাঠেই আছেন: রুহুল আমিন হাওলাদার
প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কবিতা খানম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান, বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এমআই
