চালু হলো স্পেশাল ম্যাংগো ট্রেন

আপডেট : ১০ জুন ২০২৩, ০৩:৩০

৪ হাজার ৭৫৮ কেজি আম নিয়ে ঢাকায় ছুটে এলো ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। গতকাল শুক্রবার থেকে আম পরিবহনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চলাচল শুরু হলো। এখন থেকে একজোড়া ট্রেন চলবে। এ সার্ভিস সফলভাবে পরিচালনা করতে জেলায় জেলায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সভা করে প্রচারণা চলছে। গত তিন বছর যাবৎ চলছে এ সার্ভিস।

ছুটি ছাড়াই সপ্তাহের প্রতিদিন বিকাল ৪টায় গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর স্টেশন ছেড়ে জেলার নাচোল, নাচোলের নিজামপুর, জেলার সদর উপজেলার আমনুরা জংশন হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন, এরপর সদর উপজেলার আমনুরা বাইপাস, রাজশাহীর কাঁকনহাট হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজশাহী স্টেশন ছেড়ে রাত ১২টা ১৫ মিনিটে জয়দেবপুর, রাত ১২টা ৫০ মিনিটে ঢাকা এয়ারপোর্ট ও রাত ১টা ১৫ মিনিটে শেষ গন্তব্য ঢাকার তেজগাঁও স্টেশনে পৌঁছায়। আরেকটি ট্রেন রাত ৩টায় ঢাকা ছেড়ে পরের দিন দুপুর ২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌঁছাবে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এ ট্রেন চলাচলের জন্য শুভ উদ্বোধন করেন। বিকাল ৪টায় এই ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে ঢাকার উদ্দেশ্যে। পথে নাচোল, নিজামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আমনুরা বাইপাস ও কাঁকানহাট রেলস্টেশনসহ ১৪টি স্টেশনে আম নিয়ে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন ঢাকার তেজগাঁওয়ে পৌঁছে রাত ১টা ১৫ মিনিটে। এসব স্টেশন থেকে ঢাকায় আম পরিবহনে ব্যবসায়ী ও চাষিদের খরচ হয় প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৩২ পয়সা।

প্রথম ২০২০ সালের ৫ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে রাজধানীগামী ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটি চালু হয়। ঐ বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চলা ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহন হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২ কেজি। এতে রাজস্ব আয় হয় দুই লাখ ১১ হাজার ৪৫৮ টাকা। দ্বিতীয় বারের মতো ২০২১ সালের ২৭ মে ট্রেনটি চালু করা হয়। সেই বছর আম পরিবহন করা হয় দুই লাখ ৩৬ হাজার ৯৭৩ কেজি। রাজস্ব আদায় হয় ১৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯২০ টাকা। সর্বশেষ গতবছর এ ট্রেনে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৫ কেজি আম পরিবহন করা হয়। এতে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৪ টাকা আয় হয়।

এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, আমের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, স্বল্প খরচে ও কম সময়ে উত্তরঙ্গের বহুল উৎপাদিত আম ঢাকা পৌঁছাবে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে। সাধারণ মানুষ, সাধারণ আমচাষি ও আম ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০ সালে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালু করতে নির্দেশনা দেন। এর ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন ব্যবস্থা করা হয়।

রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিমাঞ্চল) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, উদ্বোধন হওয়া ম্যাংগো ট্রেনে এবার সাতটি ওয়াগনে আম পরিবহন করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। এসব ওয়াগনে ৩০১ মেট্রিক টন আম পরিবহন করা যাবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পরিবহন খরচ হবে প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৩২ পয়সা। রাজশাহী থেকে এই খরচ হবে ১ টাকা ১৭ পয়সা। তিনি বলেন, ট্রেনটি চালু হওয়ায় আম ব্যবসায়ীরা কম খরচে ঢাকায় আম পরিবহন করে লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

২০২১ সালে ২৭ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৫০ দিনে আম পরিবহন হয় ২২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯২০ কেজি। রাজস্ব আয় হয় ২৬ লক্ষ ৩০ হাজার ৯২৮ টাকা। এ বছরই সবচাইতে বেশি দিন ট্রেন চলে, আম পরিবহন হয় ও আয় হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ১৩ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত মাত্র ১১ দিন ম্যাংগো স্পেশাল চলে। আম পরিবহন হয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৮ কেজি। আয় হয় ৩ লাখ ১৯ হাজার ২৬৫ টাকা।

ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে গত তিন বছর যাবত ঢাকায় আম পরিবহন করছেন সদর উপজেলার আম ব্যবসায়ী আহাদ বিশ্বাস। তিনি ও ট্রেনে আম পরিবহনকারী অন্য ব্যবসায়ীরা বলেন, সার্ভিসটি কুরিয়ারের চেয়ে ভালো ও সাশ্রয়ী। কুরিয়ারে কখন আম পৌঁছবে তা নিশ্চিত নয়। এছাড়া আম যত্নে যায় না। তবে তারা ফোন করে খবর দেয়। এছাড়া ট্রেনের আরেকটি সমস্যা শুধু শুরুর ও শেষের দুই স্টেশন পর্যন্ত আম আনা ও নেওয়ার বাড়তি বিষয়টি। তবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, অনলাইন আম ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ে সার্ভিসটি ভালো। ক্রমান্বয়ে এটি জনপ্রিয় হবে। তবে এটি আরও পূর্বে চালু হলে ভালো হতো।

ইত্তেফাক/এমএএম