জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ, পুলিশ কনস্টেবলকে থানায় সোপর্দ

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, ১৭:৪১

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে মেহমুদ হারুন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে হাতেনাতে আটক করে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

রোববার (১১ জুন) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন সড়ক থেকে ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অবৈধ ওয়াকিটকি এবং হাতকড়া জব্দ করা হয়।  

আটক মেহমুদ হারুন সাভারের রাজাশন এলাকার। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে এসএএফ-এর কনস্টেবল পদে কর্মরত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন সড়কে এক ছাত্রীকে হেনস্তা করেন ওই পুলিশ কনস্টেবল। তার সঙ্গে বিদ্যুৎ চৌধুরী নামের এক যুবক ছিলেন। তখন ভুক্তভোগী ছাত্রী তার বন্ধুদের ফোন করেন। এ সময় অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন ফটক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে বিদ্যুৎ চৌধুরী পালিয়ে গেলেও পুলিশ কনস্টেবলকে ধরে বেধড়ক মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে তুলে দেওয়া হয়।  

ভুক্তভোগী ছাত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, 'রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের সমানের রাস্তা দিয়ে হলে ফিরছিলাম। এ সময় ওই পুলিশ কনস্টেবল ও তার সঙ্গে থাকা এক যুবক আমার পথ আটকায়। আমাকে নানান ধরনের আপত্তিকর কথা বলতে থাকেন। আমি রিকশায় উঠলেও তারা আমার সঙ্গে অসভ্য আচরণ করতে থাকে। এরপর আমি আমার বন্ধুদের ফোন করি। বন্ধুরা আসার খবরে কনস্টেবলের সঙ্গে থাকা যুবক পালিয়ে যায়। তবে আমার বন্ধুরা এসে পুলিশ কনস্টেবলকে ধরে ফেলে।' 

অভিযোগ স্বীকার করে মেহমুদ হারুন বলেন, ‘আমি একা ছিলাম না। আমার সঙ্গে যে ছোট ভাই ছিল, সেও জড়িত। তার নাম বিদ্যুৎ চৌধুরী। সে পালিয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান সুদীপ্ত শাহিন বলেন, 'শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটক করে আমাদের হাতে তুলে দেয়। অভিযুক্ত প্রাথমিকভাবে তার দোষ স্বীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।'

এদিকে রাত সাড়ে ১২টায় আশুলিয়া থানা পুলিশের চার থেকে পাঁচজন কর্মরত পুলিশ সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় আসেন। তাদের মধ্যে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবজাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধানের সঙ্গে ঔদ্ধত্য আচরণসহ বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করে কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যান।  

আশুলিয়া থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। অভিযুক্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান সুদীপ্ত শাহিনের সঙ্গে ঔদ্ধত্য আচরণ করায় এসআই আবজালকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহকারী অধ্যাপক এসএম এ মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরছে। অভিযুক্তকে আমরা আশুলিয়া থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করবে।'

ইত্তেফাক/এআই