লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন, এলাকা পরিবর্তন ও অন্যান্য কাজে সেবা প্রত্যাশীদের নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ঘুরলেও কাজ না করে দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অফিসে আসেন কম। প্রায় সময় উনাকে পাওয়া যায় না। অফিসে থাকলেও উনার রুমের প্রধান দরজা বন্ধ থাকে, জানালায় থাকে পর্দা দেখা করতেও লাগে অনুমতি। অনুমতি মিললেও চাহিদামতো প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েও পাওয়া যায়না সমস্যার সমাধান। শুধু তাই নয় স্মার্ট কার্ড নিতেও একজন ব্যক্তিকে ঘুরতে হচ্ছে একাধিক দিন। জাতীয় পরিচয়পত্রের এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে দেরি হওয়ায় অনেকেই পাসপোর্ট ও চাকরিসহ বিভিন্ন জরুরি কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকইে। এছাড়া অফিসের কর্মচারীর কারণে ভোটার আইডি কার্ডে দেখা দেয় বড় ধরনের ভুল যা সংশোধনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের হাজিমারা আশ্রায়নকেন্দ্রের বাসিন্দা মাহাম্মাদ আলী বলেন, গত বছরের জানুয়ারি মাসে অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করেছিলাম। এ নিয়ে নির্বাচন অফিসে অন্তত ১০ বার এসেছি। শেষ পর্যন্ত তারা কোর্ট এফিডেভিট করে আনতে বলা হলে তা জমা দিলেও এক বছরে মেলেনি সেবা।
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে আসা জয়নাল বলেন, ভুল সংশোধন ও নতুন ভোটার হওয়া নিয়ে এখানে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। একাধিকবার এ কার্যালয়ে আসতে হচ্ছে। এ জটিলতার সুযোগ নিয়ে এখানে সৃষ্টি হয়েছে দালালচক্র। যারা টাকা দিচ্ছে, তাদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে। যারা দালাল ধরছে না,তাদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে এমনকি বছরও চলে যায়।
চরমোহনা ইউনিয়নের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন রানা বলেন, আমার এক স্বজন ইউনিয়ন স্থানান্তর হবেন। তাই সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও ৭ মাস ধরে ঘুরেও সেবা মেলেনি।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মারুফ বিন জাকারিয়া বলেন, নির্বাচন অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাদের আন্তরিকতা ঘাটতির কারণে জনগণ এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী মাহফুজ আহমেদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্ব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার তদন্তে দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ের দলের কাছে অভিযোগ স্বীকার করে ও ভবিষ্যতে কখনো এ ধরনের হয়রানি করবে না বলে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে ক্ষমা পায়। এখন আরও বেশি অনিয়ম করা হচ্ছে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আলম বলেন, সংশোধনের বিভিন্ন ক্যাটাগরি আছে, আমার আয়ত্বে থাকলে অনুমোদন করে দেওয়া হয়। লোকজনকে হয়রানির কোনো সুযোগ নেই।
অফিসে না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচিতে থাকি এবং রামগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্তি দায়িত্বে আমাকে দেওয়া হয়েছে। তাই সপ্তাহে দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
