বাংলাদেশ আফগানিস্তান টেস্ট

‘নতুন খেলা, নতুন চ্যালেঞ্জ’

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৩, ১১:২৯

আজ রাত পোহালে কাল সকালেই মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। লাল বলের এ ফরম্যাটে আফগানদের থেকে টাইগারদের অভিজ্ঞ বেশি থাকলেও তাদের বিপক্ষে সুখের স্মৃতি নেই। এই ফরম্যাটে টাইগাররা একবারই তাদের বিপক্ষে খেলেছিল তা-ও ২০১৯ সালে। তবে ঐ ম্যাচে রশিদ খানের আক্রমণে ২২৪ রানের বড় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিতে হয় বাংলাদেশ দলের। তবে অতীতের ঐ ফলাফল নিয়ে ভাবছেন না টাইগার অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দিলেন তার চিন্তাভাবনাও।

সোমবার (১২ জুন) মিরপুরে ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রথম বারের মতো বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ফরম্যাটে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া লিটন দাস।  এ সময় তিনি অতীত নিয়ে ভাবেন না উল্লেখ করে বলেন, ‘ঐ ম্যাচটা অতীত (২০১৯ সালের মিরপুর টেস্ট)। আর আমি অতীত নিয়ে এত চিন্তা করি না। যেহেতু নতুন গেম, নতুন চ্যালেঞ্জ, আমরা নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত সবাই।’

এদিকে ২০০০ সালে প্রথম টেস্ট খেলা বাংলাদেশ দলের সাদা পোশাকে লিটন হবেন ১২তম অধিনায়ক। আগামীকাল টাইগারদের হয়ে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে লিটন গড়বেন একটি নতুন কীর্তিও। মোহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাশরাফি বিন মুর্তজার পর পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশকে সব ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেবেন লিটন। আর টেস্ট অধিনায়ক লিটনের রোমাঞ্চটা আসলে কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানান, ‘বিশেষ কিছু না।’ 

লিটন বলেন, ‘এটা তো অবশ্যই একটা ভালো লাগার ব্যাপার কাজ করে। টেস্ট ক্রিকেটকে সবাই প্রধান্য দেয়। টেস্ট ক্রিকেটার হওয়াটাই অনেক বড় বিষয়। তার মধ্যে দেশের হয়ে অধিনায়ত্ব করা তো অবশ্যই গর্বের বিষয়।’  এসময় আরেক সংবাদ কর্মী প্রশ্ন করেন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ব্লেজার পরে টস করছেন, এমন কি কখনো ভেবেছেন? লিটন বলেন, ‘এভাবে কখনো চিন্তা করা হয়নি আসলে। দেখা যাক টস করতে গেলে অনুভূতিটা যদি ওভাবে আসে তাহলে আসতেই পারে।’

অবশ্য মিনিট দুয়েক পরেই বিশেষ কিছু মনে না হওয়ার কারণ জানান লিটন। গত বছর টেস্টে অধিনায়ক করা হয় সাকিবকে, আর তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় লিটন দাসকে। এরপর থেকে মাঠের বিভিন্ন কাজেই সাহায্য করেছেন, এমন দাবি তার। 

লিটন বলেন, ‘আমি আগেও মাঠে দায়িত্ব সামাল দিয়েছি ভাইস ক্যাপ্টেন হিসেবে। এমনও হয়েছে যে সাকিব ভাই মাঠের বাইরে গেছেন, তখন আমাকে মাঠ সামলাতে হতো। কম হলেও সেসময় ১-২ ওভার অধিনায়কত্ব করতে হয়েছে। তাই এটা নিয়ে তাই চিন্তা হয়নি।’

শেষবার দেখায় বাংলাদেশকে ভুগিয়েছিল আফগান স্পিনার রশিদ খান। কিন্তু এবার আফগান টেস্ট দলে রশিদ খান নেই। খবরটা বাংলাদেশের জন্য ভালো হলেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন টাইগাররা। এমনটাই জানিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘রশিদ থাকলেও যেভাবে সিরিয়াসভাবে নিতাম, না থাকায়ও আমরা ঐ ওয়েতে (মনোবল) এগোব।’

অন্যদিকে টেস্ট ফরম্যাটে সফরকারীদের অভিজ্ঞতা নেই তেমন। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এ নিয়ে কেবল ছয়টি টেস্ট খেলেছে তারা। এর মধ্যে শেষ ম্যাচটি খেলেছে ২০২১ সালের মার্চে। অপরদিকে সেভাবে সাফল্য না পেলেও গত কয়েক বছর নিয়মিতই টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। তাই বলা যায় সাদা পোশাকের ক্রিকেটে তাদের থেকে অভিজ্ঞতায় অনেক বেশি এগিয়েই রয়েছেন টাইগাররা। আর এই জিনিসটাকেই কাজে লাগিয়ে আফগানদের বিপক্ষে নিজেদের করা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান লিটন দাস। বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে আমাদেরও বিরতি পড়েছে। সর্বশেষ আমরা এপ্রিলে খেলেছি। তারপর একটা সাদা বলের সংস্করণ খেলেছি। আমার মনে হয় তাদের চেয়ে আমরা একদিক দিয়ে ভালো আমরা অনেক দিন ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলছি।’

ইত্তেফাক/এসএস