জোর করে কেটে নেওয়া হচ্ছে কৃষিজমির মাটি

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩, ০৫:০৩

কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর ও কলাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় খননের নামে সীমানা নির্ধারণ না করে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকার কৃষক। গতকাল মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রোহিতপুর ইউনিয়নের নতুন সোনাকান্দা আদর্শ পুলিশ ফাঁড়ি ক্যাম্প রোডের পাশে কৃষকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ কর্মসূচিতে গ্রামের প্রায় কয়েক শতাধিক কৃষক ও ভুক্তভোগীরা অংশ নেন। পরে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও মাটিদস্যু সিরাজসহ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা এ সময় ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানান এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

রোহিতপুর ইউনিয়ন মুগারচর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম বলেন, জলাশায় খননের নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। সেই মাটি গভীর করে কাটা হচ্ছে । মাটিকাটার ফলে আশপাশের জমির মালিকরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাছাড়া জমি উর্বরতা হারাচ্ছে ও ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আফজাজ উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন তিন ফসলি জমি রক্ষার। কিন্তু তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির ক্ষতি হচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারবে না। তখন খাদ্য সংকট দেখা দিবে। আব্দুল রহমান বলেন, যেখানে ইরি, বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করা হয়। জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে কিন্তু থানা পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে। মাটিদস্যুরা কেরানীগঞ্জ রোহিতপুর, ধীতপুর, কাজিরগাঁও, কুমলি, আব্দুল্লাহপুর, কলাতিয়া, কুন্ডা, বনগ্রাম, মুগারচর সোনাকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও হাউজিং প্রকল্পে বিক্রি করছে। কমিশন পাচ্ছে থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা।

হাজি মতিউর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় কৃষিজমি উর্বরতা হারাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হোসনে আরা স্বপ্না জানান, ধীতপুর মৌজায় ১৫ শতাংশ ফসলি জমির প্রায় ১০ ফুট গভীর করে হানিফ খাঁ, হালিম খাঁ, শাহ আলম খাঁ, বাদল, বাবুল ও কামরুল নামে কয়েক জন মাটি কেটে বিক্রি করে দেয়। তবে অভিযুক্ত হানিফ খাঁ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে অস্বীকার করেছেন। অন্যরা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি নন। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা গতকাল পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাসান অভিযোগ করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ধীতপুর মৌজায় তার ৩৫ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে। গত সপ্তাহে কামরুল, বাবুল ও বাদল তার জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের কাছে বিচার দিয়েও কোনো ফল পাননি। এসব অভিযোগ ও মানববন্ধনের বিষয় নিয়ে গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সল বিন করিম জানান, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার যন্ত্র জব্দসহ জরিমানা করা হচ্ছে। গত মে মাসে তিন জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/ইআ