‘অনিন্দ্যসুন্দর’ ইনিংসের পরও যে কারণে কাঠগড়ায় শান্ত

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৩, ১০:৪৫

চাঁদেরও কলঙ্ক আছে। সে কথা জেনেই কি নিজের ‘অনিন্দ্যসুন্দর’ ইনিংসটার গায়ে কলঙ্কের একটা দাগ লাগিয়ে দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত! ওয়ান ডাউনে নেমে ১৪৬ রানের আলো ঝলমলে এক ইনিংস খেলেছেন। দুটি ছক্কা ও ২৩ চারে সাজানো তার ১৭৫ বলের ‘সুন্দর’ ইনিংসের সুবাদেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। তার ঐ ইনিংসে চড়েই বাংলাদেশ দিন শেষে গড়েছে ৫ উইকেটে ৩৬২ রানের পুঁজি। হয়েছে দুটি রেকর্ড।

মোদ্দা কথা, প্রথম দিনেই দেশকে চালকের আসনে বসিয়ে দেওয়ার নায়ক তিনিই। সেজন্য বাহবা তার প্রাপ্যও। কিন্তু সেই বাহবার পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্তকে একটু দায়ও নিতে হবে। সেটা তার নিজের আউটের জন্যই। পুরো ইনিংসেই যিনি একের পর এক অনিন্দ্য সুন্দর সব শট উপহার দিয়েছেন, সেই নাজমুল শান্ত যেন ব্যক্তিগত ১৪০ পেরিয়ে হঠাৎই অধৈর্য হয়ে পড়েন। সেই অধৈর্যের ফসল হিসেবে ব্যক্তিগত ১৪৩ রানে দাঁড়িয়ে করলেন এক ভুল। স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল ভুল শটে স্ট্যাম্পে টেনে এনে আউট হন! সেই আউট থেকে বেঁচে যান সৌভাগ্যের ছোঁয়ায়। ঐ বলটা ছিল নো।

ভাগ্যের সহায়তায় জীবন লাভের পরও শান্তর ঘাড়ে চেপে বসা অধৈর্যের ভূত নামল না! একটু পরই আবার আফগান স্পিনার আমির হামজাকে তুলে মারতে গিয়ে নিজের উইকেট বিসর্জন দিয়ে এলেন। তাড়াহুড়োর শটটিতে ‘টাইমিং, প্লেসমেন্ট’ কোনোটাই ঠিক ছিল না। তারচেয়েও বড় কথা, ওই সময়ে অমন উচ্চাবিলাসী শট খেলার কোনো দরকারই ছিল না। তিনি হয়তো ছক্কা মেরে এক লাফে ‘১৫০’ রানে পৌঁছতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেন? ছক্কা মারার জন্য জন্য ‘লুজ’ বল চাই। আমির হামজার ওই ডেলিভারিটি কোনোভাবেই ‘লুজ’ ছিল না। কাজেই অসাধারণ এক ইনিংসের পরও নাজমুল নিজের ভুল আউটের দায় এড়াতে পারেন না! আউটটা তার দৃষ্টিনন্দন ইনিংসের গায়ে কলঙ্কের তিলকই।

হঠাৎ ওমন অধৈর্য হয়ে না পড়লে হয়তো ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় বারের মতো ‘১৫০’ করার স্বাদ পেতেই পারতেন নাজমুল। তার অসাধারণ ব্যাটিং দেখে তো ‘ডাবল সেঞ্চুরি’র আভাসও মিলছিল। কিন্তু সেসব সম্ভাবনারই মৃত্যু হয়েছে ভুল শটে। তবে শেষের এই ভুলের আগে যেভাবে খেলেছেন, এক কথায় অসাধারণ। ক্যারিয়ারে এটা তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। তবে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ নয়। টেস্টে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি ইনিংসেই তিনি করেছিলেন ১৬৩ রান। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে খেলা সেই ইনিংসটিই এখনো পর্যন্ত তার ক্যারিয়ার সেরা। তবে দলীয় গুরুত্ব বিচারে কালকের ইনিংসটিকেই হয়তো এগিয়ে রাখতে চাইবেন।

দলীয় মাত্র ৬ রানের মাথায়ই জাকির হাসান আউট হওয়ার পর ব্যাট হাতে মাঠে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মানে চাপ মাথায় নিয়েই মাঠে নামেন তিনি। কিন্তু মাঠে নেমেই ব্যাটের আঘাতে সেই চাপ মুছে ফেলতে শুরু করেন। তাতে সফলও হন। ধৈর্যশীল মাহমুদুল হাসান জয়কে সঙ্গে নিয়ে বড় করতে থাকেন জুটি। শেষ পর্যন্ত জুটিতে রেকর্ডও গড়ে ফেলেন তারা। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে মিলে গড়েন ২১২ রানের জুটি। যেটি বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। এই জুটি ভাঙে মাহমুদুল হাসানের বিদায়ের মাধ্যমে। কাকতালীয় হলো, মাহমুদুলও ভুল শট খেলেই আউট হয়ে যান। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন স্লিপে। মানে ৭৬ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলার পর মাহমুদুলও কাঠগড়ায়। আউটের জন্য মাহমুদুল নিজেই হয়তো নিজেকে দুষছেন!

সৌভাগ্যের ব্যাপার যে ‘নিজেদের ভুলের আফসোস’ চাপা রেখে দিন শেষে তারা ঠিকই হাসতে পারছেন। আর সেই হাসির রূপকারও তারাই! কী দারুণ ব্যাপার!

ইত্তেফাক/এসএস