উপকথা

প্রাচীন ভারতীয় উপকথা অকৃতজ্ঞ স্বর্ণকার

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৯, ২০:০০

এক দেশে এক বেকার ব্রাহ্মণ ছিল। সে কাজের খোঁজে পায়ে হেঁটে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াত। একবার ভ্রমণকালে সে একজন স্বর্ণকারের দেখা পেল। স্বর্ণকার ব্রাহ্মণকে যে কোনো সুবিধাজনক সময়ে তার অতিথি হওয়ার জন্যে আমন্ত্রণ জানাল।

একদিন ব্রাহ্মণ চলার পথে একটি কূপ দেখতে পেল। কূপের ভেতর একটি বানর, একটি বাঘ ও একটি সাপ  আটকা পড়েছিল। তারা পথিক ব্রাহ্মণকে দেখে সাহায্যের জন্যে একযোগে চিত্কার জুড়ে দিল। কী করা যায় ভাবতে ভাবতে ব্রাহ্মণ হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল। যদি সে বাঘ কিংবা সাপকে উদ্ধার করে তাহলে ওরা তার ক্ষতি করতে পারে। তবে ওরা উভয়েই ব্রাহ্মণকে নিশ্চয়তা দিল যে তারা ছাড়া পেলে কিছুতেই তাদের জীবন রক্ষাকারীর ক্ষতি করবে না।

ব্রাহ্মণ তাদের কথা বিশ্বাস করল। সে একে একে আটক তিনজনকেই কূপ থেকে বের করে নিয়ে এল। ছাড়া পেয়ে বিদায়ের সময় বাঘ বলল, ‘আমি জঙ্গলে থাকি। বিপদে পড়লে যে কোনো সাহায্যের জন্যে তুমি আমাকে স্মরণ করতে পার।’ সাপও আশ্বাস দিয়ে বলল, ‘প্রয়োজনে আমাকে ডেকে নিয়ো। বিপদে আমি অবশ্যই তোমার পাশে থাকব।’ বানর ব্রাহ্মণকে প্রয়োজনে পর্যাপ্ত ফলমূল সরবরাহের প্রস্তাব দিল।

ঘটনাচক্রে ব্রাহ্মণ পরদিনই বানরের দেখা পেয়ে গেল। বানর তাকে প্রচুর ফলমূল উপহার দিল। সে আবার তাকে বাঘের আস্তানায়ও নিয়ে গেল। বাঘ ব্রাহ্মণকে দেখতে পেয়ে খুবই খুশি হলো। সে তাকে এক সেট মনকাড়া সোনার গহনা উপহার দিল। ব্রাহ্মণ খুশিমনে ভাবল, এতদিনে আমার খাওয়া-পরার চিন্তা দূর হলো। গহনাগুলো বিক্রি করে আমি মহাসুখে জীবন কাটাব। গহনাগুলো সে বিক্রির জন্যে সেই স্বর্ণকারের সঙ্গে যোগাযোগ করল। স্বর্ণকার ব্রাহ্মণকে দোকানে বসিয়ে রেখে একটা অজুহাত দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে দোকান থেকে বেরিয়ে পড়ল। সে সোজা রাজদরবারে গিয়ে জানিয়ে দিল যে রানির হারিয়ে যাওয়া সোনার গহনাগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে।

রাজার পাইক-পেয়াদা তাড়াতাড়ি এসে ব্রাহ্মণকে বন্দি করে কারাগারে পাঠিয়ে দিল। ব্রাহ্মণ এ বিপদে প্রথমেই সাপকে স্মরণ করল। সাপ গোপনে কারাগারে এসে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, ‘ঠিক আছে বন্ধু, তুমি মোটেই ভয় পেয়ো না। আমি রানিকে দংশন করব। তুমি রানির কপাল স্পর্শ না করা পর্যন্ত  বদ্যি-ওঝারা শত চেষ্টা করেও তাঁকে সুস্থ করতে পারবে না। এভাবে তুমি রাজাকে খুশি করতে পারবে এবং সম্মানের সঙ্গে মুক্তিও পেয়ে যাবে।’

সাপটি কথা অনুযায়ী রানিকে দংশন করল। রাজ্যের সকল বদ্যি-ওঝা ব্যর্থ হওয়ার পর রাজা ব্রাহ্মণকে অনুমতি দিলেন রানির কপাল স্পর্শ করার জন্যে।

ব্রাহ্মণ রানির কপালে হাত রাখা মাত্রই তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন এবং সুস্থবোধ করলেন। রাজা খুশি হয়ে ব্রাহ্মণকে মুক্তি দিলেন এবং প্রচুর ধন-রত্ন দিয়ে পুরস্কৃত করলেন। অন্যদিকে ব্রাহ্মণকে বিপদে ফেলার জন্য কারাবন্দি করলেন অকৃতজ্ঞ স্বর্ণকারকে।

পুনর্কথন :আহমেদ জসিম