সিঙ্গাপুরে বাবার কাছে যাওয়া হলো না শিশু নূরে জান্নাত লুবার (৪)। মায়ের সঙ্গে বগুড়া শহরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত হয় শিশু লুবা। মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মা তানজিলা (২৪)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বগুড়ার শেরপুরে হাজীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশু লুবাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
নিহত লুবা উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী হাবিবুর রহমানের মেয়ে। দুর্ঘটনায় অন্য নিহতরা হলেন শাহবন্দেগী ইউনিয়নের হামছায়াপুর গ্রামের গোলাম কবির (৪০) ও অজ্ঞাতনামা এক নারী (৪৫)।
এই ঘটনায় আহতরা হলেন তানজিলা আক্তার (২৪), মোজাম্মেল হক (৫০), আসাদ মিয়া (৪০)। আহত তানজিলা আক্তার নিহত শিশু লুবার মা। তারা সিএনজি অটোরিকশা যোগে বগুড়ায় যাচ্ছিলেন। আগামী রোববার তাদের সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা ছিল।
জানা গেছে, শেরপুর শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা বগুড়ায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মহাসড়কের হাজীপুর নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীতগামী অপর একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই নারী নিহত হন। পাশপাশি সিএনজির চালকসহ অন্যান্য যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিক তাদেরকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাম কবির নামের আরেক ব্যক্তি মারা যান।
জানতে চাইলে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ হাইওয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। চালক-হেলপার পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
