সিরাজগঞ্জে প্রস্তুত প্রায় ৪ লাখ পশু, হাট-অনলাইনে বিক্রি

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৩, ১১:৫৬

সিরাজগঞ্জে আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় খামারীরা তিন লাখ ৯৬ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করেছে। তাছাড়া পশু বিক্রির জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চালু করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৭ হাজার বাণিজ্যিক খামার ও ব্যক্তিগতভাবে এই পশুগুলো তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৭১২টি এবং ছাগল রয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার। এছাড়া, বাকি পশুর মধ্যে  মহিষ ও ভেড়া রয়েছে।

খামারিরা জানিয়েছে, জেলায় কোরবানির জন্য প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। বাকি পশুগুলো রাজধানী ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য পাঠানো হবে।

জেলার বিভিন্ন হাটের ইজারাদার ও খামারি জানান, ইতোমধ্যেই হাটে কোরবানির পশু ক্রয় ও বিক্রয় শুরু হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে খামারিদের পশু বিক্রির জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনেকে তাদের পশু বিক্রির জন্য ছবি অলাইনে দিয়েছে। প্রতিদিন এসব পশুর ছবিসহ বিবরণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে আপলোড করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার সয়দাবাদ এলাকার আরাভ এগ্রো ডেইরি ফ্রামের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন বলেন, তারা এবার কোরবানির জন্য প্রায় তিনশটি গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ষাড়, দুম্বা, খাসি ও মহিষ রয়েছে। তবে গো খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে তাদের এবার বড় ধরনের লোকশান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন।

সদর উপজেলার কালিয়া কান্দাপাড়ায় এলাকার তালুকদার ডেইরি ফার্মের ম্যানেজার শফিউর রহমান বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য তারা ৪৫টি ষাড় প্রস্তুত করেছেন।

ছবি: ইত্তেফাক

জেলার ঐতিহ্যবাহী তালগাছী হাটের ইজারাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, কোরবানির হাট জমতে শুরু করেছে। বাইরের ব্যাপারিও আসছে। তবে এখনও ওভাবে হাট পুরোপুরি জমে না উঠলেও দুই-একটি করে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার বলেন, প্রতিটি উপজেলার খামার পরির্দশন করে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ ওষুধপত্র দিচ্ছি। এবার জেলায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার মোটাতাজা করা পশু ক্রয় বিক্রয় হবে বলে আমরা আশা করছি।

ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা জেলার বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতিটি হাটে ব্যাংকের লোক থাকবে। গবাদিপশু ক্রেতা ও বিক্রেতারা যেকোনো ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট এবং কিউআর কোড ব্যবহার করে ই-ব্যাংকিং লেনদেন সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

জেলায় ৩১টি স্থায়ী ও ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাটের মাধ্যমে এসব গবাদি পশু বিক্রি করা হবে। এছাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে পশুর ছবি আপলোড করে অনলাইনেও বিক্রি করা হবে বলেন এই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

ইত্তেফাক/আরএজে