২১ লাখের বেশি উদ্বৃত্ত থাকবে কোরবানির পশু

আপডেট : ২১ জুন ২০২৩, ০৩:৩৮

রাজধানীর হাটগুলোতে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখনো ঈদের বেশ কয়েক দিন বাকি থাকলেও রাস্তার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে ও হাটে পছন্দমতো জায়গা পেতে অনেকেই আগেভাগে গরু নিয়ে আসছেন। চলতি বছর দেশে যে পরিমাণ কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে তা দিয়ে চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে। গত কয়েক বছর ধরে একই অবস্থা। তবে খামারিরা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমার ও ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে গরু ঢুকছে। এটা হলে খামারিরা একদম পথে বসে যাবে। এছাড়া, পশুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশুর দামের ওপর এর প্রভাব পড়বে। অতিরিক্ত দামের কারণে কোরবানি দেওয়ার সংখ্যা কমে যেতে পারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য মোট গবাদি পশু রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। আর কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৯টি। সে হিসেবে এ বছর ২১ লাখ ৪১ হাজার ৫৯৪টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। তথ্য বলছে, মোট কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশু রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৪টি। সবচেয়ে কম পশু রয়েছে সিলেট বিভাগে ৪ লাখ ১০ হাজার ২২৫টি। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ লাখ ৫৩ হাজার ১২৮টি, খুলনা বিভাগে ১৫ লাখ ১১ হাজার ৭০৮টি, বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ২০৬টি, রংপুর বিভাগে ১৯ লাখ ৬২ হাজার ৯৫১টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭টি কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, যে বিভাগে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু রয়েছে, সেই বিভাগ থেকে যেখানে চাহিদার চেয়ে কম পশু রয়েছে, সেখানে পাঠালে সংকট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। 

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেছেন, এবারও দেশে উত্পাদিত গবাদি পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, কোনোভাবেই গবাদি পশু অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশে অবৈধভাবে পশু আসলে আমাদের অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। যে পশু আসে সেটির স্বাস্থ্যগত অবস্থাও জানা যায় না। এছাড়া দেশের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বিষয়গুলো কঠোরভাবে দেখার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। 

এদিকে খামারিরা বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে পশুর খাদ্য, ওষুধসহ প্রায় সবকিছুর দামই বাড়তি। এ কারণে পশুর দাম এবার তুলনামূলক বেশি হবে। এছাড়া ক্রেতাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমার কারণে বড় গরুর চাহিদা এবার তুলনামূলক কম থাকবে বলে তারা মনে করছেন।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন এ প্রসঙ্গে গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এবার পশুর খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। বিদ্যুত্ বিলসহ নানা খাতেও বাড়তি খরচ যোগ হয়েছে। ফলে এবার পশুর দাম বাড়তে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পশুর হাটগুলো এখনো জমে না উঠলেও খামারগুলোতে ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। অনেকেই পছন্দের পশু আগেভাগেই কিনে রাখছেন।

পশুর হাটগুলোতে ক্যাশলেস লেনদেন চালুর উদ্যোগ

কোনো ধরনের আর্থিক দুর্ঘটনা এড়াতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে ক্যাশলেস লেনদেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে পশু কেনাবেচায় মোবাইল অথবা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা যাবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, হাটগুলোতে নগদ অর্থের ব্যাপক লেনদেনের ফলে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেমন—জাল টাকার বিস্তার, চুরি-ছিনতাই ইত্যাদি নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ক্যাশলেস লেনদেন চালু হলে এসব সমস্যা থাকবে না। জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ২৬টি জেলায় ১০টি ব্যাংক এবং তিনটি এমএফএস প্রোভাইডার (বিকাশ, নগদ এবং ইউপে) এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি