আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের পর লিওনেল মেসি সতীর্থদের বলেছেন এখন শুরু হচ্ছে নতুন এক কোপা আমেরিকা। তাই তারা যেন নিজেদের খেলাটিকে আরো উঁচুতে তোলেন।
কাতারের বিরুদ্ধে গত রবিবার ভালো খেলেই ২-০ গোলে জয়ী হয় মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলে অনুষ্ঠানরত কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিরুদ্ধে জয়ের বিকল্প ছিল না মেসিদের। কারণ হারলে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হতো গত দুইবারের ফাইনালিস্টদের।
এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ চতুর্থ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর আর তাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বরং সার্জিও অ্যাগুয়েরো জয় নিশ্চিত করেন ৮২ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটির সুবাদে।
মেসি এখন তার দলসঙ্গীদের আহ্বান জানাচ্ছেন তারা যেন গ্রুপ পর্বের খেলার কথা ভুলে নকআউটের দিকে তাকান। কেননা এ পর্বটি ছিল প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ড্র ও কলম্বিয়ার কাছে হারের কারণে দুর্দশার। কোপা আমেরিকার শেষ আটে মেসিদের বিপক্ষ এখন ‘এ’ গ্রুপের রানার্স আপ ভেনেজুয়েলা। আগামী শুক্রবার ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত হবে খেলাটি।
তিনি বলেন, ‘এখন শুরু হচ্ছে আরেকটি কোপা। আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য আমাদের দরকার ছিল এরকম একটা জয়। এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। যদিও আমরা এসেছি আগের খেলাগুলোর ভিন্ন এক পরিস্থিতি থেকে।’
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর পাওয়া এই সুপারস্টার কাতারের বিরুদ্ধে দলসঙ্গীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেও মুগ্ধ। সেটাই রিপোর্টারদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেসি বলেন,‘আমার বেশি পছন্দ হয়েছে দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি। আমরা জানতাম আমাদের করণীয় কি। যদিও ঐ খেলাগুলো ছিল কঠিন।’
কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি জয়ের পর জানিয়েছেন খেলোয়াড়দের ওপর এত চাপ ছিল যে মনে হচ্ছিল তারা যেন যুদ্ধবিগ্রহের মধ্যে ছিলেন। আর্জেন্টিনা কোচ স্বীকার করেন টুর্নামেন্টে বাজে সূচনার পর এই ফল ছিল প্রার্থিত।
স্ক্যালোনি জানান এখন তাদের উন্নতি করতে হবে। তিনি বলেন,‘আমাদের কিছু বিষয়ে উন্নতি ঘটাতে হবে। তবে আমরা সন্তুষ্ট। আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য আমাদের দরকার ছিল এরকম একটা খেলা। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে যেখানে আমরা ভয়ডরহীন খেলি।’
কলম্বিয়ার কাছে হার ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে ড্রয়ের পর কোচ স্ক্যালোনিও তীব্র সমালোচনার মধ্যে পড়েছিলেন। তিনি অবশ্য ওই সমালোচনার প্রভাবকে ব্যক্তিগতভাবে নেননি। তার মতে,‘আমি কখনো নিজেকে নিয়ে ভাবি না। আমি সবসময় ভাবি জাতীয় দলের কথা।’
এদিকে কাতারের কোচ ফেলিক্স সানচেজ জানিয়েছেন কোপা আমেরিকায় খেলতে পারা এবং লিওনেল মেসির মুখোমুখি হওয়া এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের জন্য বিশাল অভিজ্ঞতা। খেলাটি শুরুর আগে কাতার পয়েন্ট টেবিলে আর্জেন্টিনার চাইতে গোল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।
শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলেও ফেলিক্স মনে করেন তারা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অনেক অর্জন নিয়েই ফিরছে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজকরা। তিনি বলেন,‘অবশ্যই মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ই তো পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। কখনো গোল করে, কখনো বলের জোগান দিয়ে। আমি মনে করি মেসি যাতে গোল করতে না পারে সেটি আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছিলাম। কিন্তু এরপরও আমরা দুই গোল হজম করি এবং ফল ছিল একই। তারপরও অভিজ্ঞতাটা মূল্যবান।’
