সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোট, ভোগান্তি ইভিএমে 

আপডেট : ২২ জুন ২০২৩, ০৮:০০

কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষসহ দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবারই প্রথম এ দুই সিটিতে একযোগে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, ইভিএমে ধীরগতির কারণে ভোটের হার কমেছে। কোথাও কোথাও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ভোটারদের। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

রাজশাহী :রাজশাহী সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার দেলোয়ার হোসেন সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোট কাস্টিংয়ের তথ্য দিতে পারেননি। তিনি জানান, ৫০ শতাংশের ওপরে ভোট পড়েছে। নির্বাচনে কোথায়ও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। ভোটের পরিবেশ ছিল অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। 

সকাল সোয়া ৯টার দিকে নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের উপশহর স্যাটেলাইট টাউন ভোটকেন্দ্রে সপরিবারে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ খুব সুন্দর আছে। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। তবে বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে এলে ভালো লাগত। তারা নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে।

সকাল সোয়া ১০টায় নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আটকৌষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন ভোট দিয়েছেন। এ সময় সামগ্রিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ইভিএমে ভোটের ধীরগতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছয়টি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি, ইভিএম খুবই ধীরগতিতে কাজ করছে। একটা ভোট দিতে সাত-আট মিনিট লাগছে। শত শত মানুষ রোদ ও অসহ্য গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ইভিএম হঠাৎ অচল হয়ে যাচ্ছে। মেশিন যদি অচলই হয়ে যাবে, তাহলে এগুলো আনল কেন? এই নির্বাচন কমিশন একটা ‘অপদার্থ’। পরে সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন আসেন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপনের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।

এছাড়া দুপুর ১২টায় নগরীর জুলফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের ভোট দিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। এ সময় তিনি বলেন, রাজশাহীর ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ।

নারীর তিন দিনের জেল :নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪১ নম্বর তালাইমারী দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে নিচের তলায় ভোটের গোপন কক্ষে এক নারী বারবার প্রবেশ করছিলেন। তাৎক্ষনিক  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোসা. সাবিয়া নামের ঐ নারীকে তিন দিনের কারাদণ্ড দেন।

৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘর্ষ-হামলা :দুপুর ১টার দিকে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া ও পালটা ধাওয়া এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েক জন আহত হয়েছেন। টিফিন ক্যারিয়ারের প্রার্থী রুহুল আমিন টুনুর সমর্থকদের ওপর রকেটের প্রার্থী আশরাফুল বাবুর সমর্থকেরা এই হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে কিছু সময়ের জন্য ভোটকেন্দ্রটি ফাঁকা হয়ে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে ভোটাররা কেন্দ্রে ফিরে আসেন।

উল্লেখ্য, রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রার্থী ছিলেন। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মুরশিদ আলম ফারুকী (হাতপাখা) ১২ জুন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে প্রচার-প্রচারণা থেকে বিরত ছিলেন। অন্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন—আওয়ামী লীগের এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা), জাতীয় পার্টির (জাপা) সাইফুল ইসলাম স্বপন (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির লতিফ আনোয়ার (গোলাপ ফুল)।

সিলেট :দিনভর মেঘলা আকাশে সিসিক নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও ভোটের সময় বৃষ্টির ছিটেফোঁটা না থাকায় নগরী ছিল অনেকটা সরব। দু-একটি কেন্দ্রে ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সিসিক নির্বাচনে কোনো উত্তেজনা ছিল না। বিশেষ করে বিএনপির কোনো প্রার্থী নির্বাচনে না থাকায় সিসিক নির্বাচনের পালে তেমন হাওয়া বয়নি।

তবে সিসিকের নতুন গঠিত ওয়ার্ডগুলোতে ভোটের আমেজ  ছিল বেশি। ঐ সব কেন্দ্রে নারী-পুরুষের উপস্থিতিও ছিল লক্ষ্যণীয়। তবে ইভিএম সম্পর্কে অনেক ভোটারের ধরণা না থাকায় কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানে বিলম্ব হয়। অন্যদিকে পুরাতন ২৭টি ওয়ার্ডে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি কম ছিল।

সিসিকের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে। বেলা ১০টা ১৭ মিনিটে শাহজালাল উপশহর একাডেমিতে ভোটার তেমন ছিলেন না, কেন্দ্রটি ছিল অনেকটা ফাঁকা। প্রিসাইডিং অফিসার রবিউল আলম জানান, এই কেন্দ্রে ভোটার মোট ২ হাজার ৩৫৫ জন। এর মধ্যে ঐ সময় পর্যন্ত ৭ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। দুপুর ১২টায় সুবিদবাজার পিটিআই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় উপস্থিতি তেমন নেই। সেখানে দায়িত্ব পালনরত একজন নারী পোলিং এজেন্ট জানালেন, ঐ সময় পর্যন্ত অর্ধেকেরও কম ভোটার উপস্থিত হয়েছেন। নতুন ১৫টি ওয়ার্ডে নারী-পুরুষ  প্রথম বারের মতো সিসিকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন বেশ উৎসাহের সঙ্গে।

ইত্তেফাক/এমএএম