উপকূলীয় যান্ত্রিক নৌকার নিয়ন্ত্রণ চায় মত্স্য বিভাগ

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৯, ২২:১২

চট্টগ্রাম, খুলনা, কক্সবাজারসহ দেশের পুরো উপকূলীয় এলাকা এবং বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় চলাচলকারী ৩৪ হাজারেরও বেশি মেকানাইজড বোট বা যান্ত্রিক নৌকার লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন প্রদানের ক্ষমতা মত্স্য অধিদপ্তর পেতে চায়। সমুদ্রে সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধানে এবং এসব যান্ত্রিক নৌকা চলাচল ও পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে যে অনিয়ম হচ্ছে তার অবসানে মত্স্য অধিদপ্তর থেকে এই ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, মত্স্য অধিদপ্তরের ঐ ক্ষমতায়নের জন্য মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে একটি আবেদন সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপ-পরিচালক অধীর চন্দ্র দাশ বলেন, বাংলাদেশের উপকূল এবং সমুদ্র সীমানায় মাছ ধরাসহ নানা উদ্দেশ্যে প্রায় ৬৭ হাজার ৬৬৯টি যান্ত্রিক এবং অযান্ত্রিক নৌকা চলাচল করে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজারেরও বেশি রয়েছে মেকানাইজড বোট বা যান্ত্রিক নৌকা। এগুলোর মধ্যে খুব কমই রয়েছে যেগুলোর রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স করা আছে। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের এ সংক্রান্ত আলোচনায় উঠে এসেছে যে, বিপুল সংখ্যক যান্ত্রিক নৌকা লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন না করায় সরকার প্রতি বছর বিরাট অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

মত্স্য অধিদপ্তর বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে একটি বিষয় নিশ্চিত হয়েছে যে, উপকূলীয় জেলা-উপজেলাসহ সারাদেশে এই অধিদপ্তরের পর্যাপ্তসংখ্যক প্রকৌশলী ও জনবল রয়েছে। তাই মত্স্য অধিদপ্তরকে এসব যান্ত্রিক নৌকার রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স প্রদান এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষমতা দিলে কাজটি তারা সুচারুভাবে করতে পারবে। ফলে উপকূল ও সমুদ্রে যান্ত্রিক নৌকা চলাচলে নিয়মশৃঙ্খলা আনাসহ রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি সহজ হবে।

তিনি আরো বলেন, কোস্টাল মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প উপকূল ও সমুদ্রে চলাচলকারী লাইসেন্সধারী ও রেজিস্টার্ড যান্ত্রিক নৌকাগুলোর প্রত্যেকটিকে সিমকার্ডসহ আধুনিক আইডি কার্ড দেবে। এতে নৌকাগুলো কোথায় কী করছে— এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা যাবে। বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় মনিটরিং শুরু হলে যান্ত্রিক নৌকায় উপকূল এবং সমুদ্রে মাদক ও মানব পাচার, অবৈধভাবে মাছ শিকারসহ সংঘটিত সব ধরনের বেআইনি তত্পরতা কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব হবে বলেও বিশেষজ্ঞরা ভাবছেন বলে জানান প্রকল্পের উপ-পরিচালক অধীর চন্দ্র দাশ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চট্টগ্রাম এবং খুলনায় থাকা মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের মাত্র দুইটি অফিস জাহাজ ও মেকানাইজড বোটের ফিটনেস সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স দেওয়ার কাজ করছে।