ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজের বার্ষিক আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামীকাল রোববার (২৫ জুন) থেকে শুরু হবে। সারা বিশ্বের ২৫ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই হজ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাস মহামারি সৌদি কর্তৃপক্ষকে এই হজ আয়োজনের আকার কমাতে বাধ্য করার পর থেকে এটিই হবে সবচেয়ে বড় হজ অনুষ্ঠান।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালে ৯ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি লোক হজ পালন করেছেন। এর আগের বছর প্রায় ৫৯ হাজার লোক হজ পালন করেছেন। করোনা মহামারির আগে ২০১৯ সালে প্রায় ২৫ লাখ লোক হজ পালন করেছেন।
ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ থেকে সৌদি যেতে পারেননি সব হজযাত্রী। এ কারণে ফ্লাইটের সময় আরও দুই দিন বাড়িয়েছে সরকার। আজ শনিবার হজ ফ্লাইট শেষ হবে। এদিকে দেশের সব হজযাত্রীর ভিসা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ থেকে এ বছর পবিত্র হজ পালনে যাচ্ছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৫৫৮ জন। এর মধ্যে সরকারি হজযাত্রী ১০ হাজার ৩৬০ জন এবং বেসরকারি হজযাত্রী ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন। এসব হজযাত্রীর সবার ভিসা সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন টিমের সদস্যসহ মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ২৭৮টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। গত ২১ মে বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি পৌঁছেছেন মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৩ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ১০ হাজার ৩১৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ১ লাখ ৭ হাজার ৬৪৬ জন। বৃহস্পতিবার হজের ফ্লাইট শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে সব হজযাত্রী এখনো সৌদি যেতে পারেননি। জানা যায়, হজযাত্রী সংকটের কারণে ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৯টি ও সৌদিয়া এয়ারলাইনসের পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল হয়। এ ছাড়া অনেক ফ্লাইট আসন খালি রেখে সৌদি আরব গেছে। প্রথম দিনই ১৪০ আসন খালি রেখে বিমান যাত্রা করেছিল। এসব কারণে শেষ সময়ে এসে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীকে সৌদিতে পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত ১০টি ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছে মন্ত্রণালয়।

