ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই জাবির সিনেট অধিবেশন শুরু

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩, ১৮:৪৩

দীর্ঘ ৩০ বছরের অধিক সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বন্ধ থাকায় ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম সিনেট অধিবেশন শুরু হয়েছে।  

শনিবার (২৪ জুন) বিকাল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সিনেট হলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে ৪০তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশন শুরু হয়।

এদিকে ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া শুরু হওয়া সিনেট অধিবেশন ‘অপূর্ণাঙ্গ’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।  

জানা যায়, ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ- ১৯৭৩ অনুযায়ী জাবির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেট। সেই সিনেটে অন্যান্য প্রতিনিধির সঙ্গে অধ্যাদেশের ১৯(১) এর (ক) ও ১৯ (২) ধারা মেনে জাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে সিনেটে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধির বিষয়টি ৩০ বছরে নিশ্চিত করা হয়নি। তার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ সময় ছাত্র-প্রতিনিধিদের মনোনীত সদস্য ছাড়াই সিনেটের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেনি অভিযোগ ছাত্র নেতাদের। এছাড়া অ্যাক্ট অনুযায়ী সিনেটের মোট সদস্য ৯২ জন (উপ-উপাচার্য একজন হলে)। তবে এবারের সিনেটে রয়েছেন ৮১ জন সদস্য। বাকি আসনগুলো শূন্য রয়েছে।  

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, 'সিনেটে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কথা বলতে পারছি না। ছাত্রপ্রতিনিধি ছাড়া সিনেট অধিবেশন কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশাসনের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাকসু নির্বাচন দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।'

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায় বলেন, 'সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নেই ৩০ বছর ধরে। অর্থাৎ ৩০ বছর এ প্রশাসন ছাত্রদের কোনো কথা শোনে না। এটা একটা স্বৈরাচারী মনোভাব। এতে ছাত্ররা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং সিনেটের আলোচনা প্রশাসনের পক্ষে চলে যায়। এটা শুধু শিক্ষকদের অধিকার রক্ষার একটি সভা। জাকসু নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত করছে।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, 'ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার সুযোগ পাওয়া সত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটা করে না। ছাত্র প্রতিনিধি না থাকলে ছাত্র স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। ছাত্র প্রতিনিধি নাই মানে ছাত্র স্বার্থকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। যে সিনেট অধিবেশন বসছে এখানে অধিকাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ সিনেটর। মেয়াদোত্তীর্ণ সিনেটর নিয়ে সিনেট অধিবেশন সম্পূর্ণ অনৈতিক।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, 'জাকসু থেকে ছাত্র প্রতিনিধি নিয়ে আসার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিক। এক্ষেত্রে সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রয়োজন। ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় আমাদের পক্ষে এখনই কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। যেহেতু আমি কথা দিয়েছি, সুযোগ বুঝে জাকসু নির্বাচন দেব।'

ইত্তেফাক/এআই