মানিকগঞ্জে সিংগাইরের জামশা কালীগঙ্গা নদীতে গভীর পানির ওপর জমাট বাঁধা কচুরিপানার কারণে গরুবাহী নৌ-ট্রলারসহ সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদকে সামনে রেখে ট্রলারে করে পশু পরিবহনে বিপাকে পড়তে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।
সম্প্রতি বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে উপস্থাপন করেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী কামরুজ্জামান। এমন খবর পেয়ে বৈঠক শেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপন দেবনাথ, থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে যান।
এদিকে, কচুরিপানা অপসারণে স্বেচ্ছাশ্রমে যোগ দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিপন দেবনাথ। তাদের সঙ্গে যোগ দেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। শনিবার (২৪ জুন) কচুরিপানা অপসারণে স্বেচ্ছশ্রমের কাজ চলছে।
ইউএনও দিপন দেবনাথ বলেন, এখানে না এলে বুঝতেই পারতাম না কচুরিপানার এতো বড় জটের এতে মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে। বিষয়টি জানার পর শুক্রবার পর্যন্ত লোকজন নিয়ে অপসারণের কাজে ব্যস্ত রয়েছি। উপজেলা চেয়ারম্যানও প্রথম দিন ছিলেন। এখন শুধু বেদের নৌকা, গবাদিপশুর নৌকা, বাল্কহেড ও ভাসমান বাঁশের চালা আটকা রয়েছে। অন্যগুলো অপসারণ করা হয়েছে। তবে কখন অপসারণ কাজ শেষ হয় বলা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসের টিম নিয়ে রোদ ও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার সবাই এ কাজে যোগ দিয়েছেন।
জামশা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী কামরুজ্জামান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে উজানের পানির সঙ্গে এক কিলোমিটার জুড়ে কালীগঙ্গা নদীর জামশা ব্রিজের পিলারে আটকে যায় কচুরিপানা। কচুরিপানার স্তূপ অন্তত আট থেকে ১০ ফুট পুরু হয়েছে। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরসহ বিভিন্ন জেলার গরুর ট্রলার আসে এই কালীগঙ্গা দিয়ে। আবার গাবতলী হাটে পশু বিক্রি করে যাওয়ার পথে ওই সব এলাকার লোকজন ট্রলারযোগে ঈদের সময় বাড়ি ফেরে। কিন্তু নদীর মধ্যখানে গরুর ট্রলারসহ সবকিছুই কয়েক দিন ধরে আটকা রয়েছে। জমাট বাঁধা কচুরিপানা অপসারণ করতে না পারলে গরু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হবে। তাদের দিক বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
