শিশু ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে কঠোর আইন প্রণয়ন ও ন্যায় বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স ও নারীপক্ষ। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, শিশুরা কোনো জায়গায় নিরাপদ নয়। শিশু ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে ধর্ষণের ভয়াবহতা। চলতি বছর প্রথম পাঁচ মাস ২৪ দিনে ২৭৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এরমধ্যে ছয় ছেলে শিশুও রয়েছে এবং ১২টি মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানী মিরপুর ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘শিশু ধর্ষণ বন্ধ ও ন্যায় বিচারের দাবিতে’ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স ও নারীপক্ষ। এতে সহায়তা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ইউকেএইড।
আয়োজক সংগঠন ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স-এর নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, মিরপুর থানায় দীর্ঘদিন ধরে আমরা কাজ করছি। তারপরেও প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে ধর্ষণের ঘটনা। আর শিশু ধর্ষণ দেখতে চাই না। এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সে জন্যে থানায়ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা হবে।
সমাবেশে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায় বলেন, শুধু মেয়ে শিশুরাই নয়, ছেলে শিশু, প্রতিবন্ধী শিশুও ঘটনা থেকে বাদ পড়ছে না। ঘটনার নির্মমতায় দেশের মানুষ শংকিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। গত পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে ২০১৯) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক থেকে শিশুদের প্রতি ধর্ষণ, ধর্ষণের মাধ্যমে আহত করা, যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের পর হত্যার প্রায় ৩০০টি ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে। সংখ্যাটি অত্যন্ত ভয়াবহ।
সমাবেশে মিরপুর টি এম আই স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী স্বপ্না আক্তার বলেন, আসুন নিজের শিশু, আশেপাশের শিশুকে সুরক্ষিত রাখি। শিশুদের প্রতি ধর্ষণ ও সহিংসতা বন্ধ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সবাই সোচ্চার থাকি, সতর্ক থাকি এবং সম্মিলিত প্রতিবাদী আওয়াজ তুলি।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের কমিশনার সচিব আবু সাঈদ পান্না, দুর্বার নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদা খাতুন, কুর্মিটোলা কলোনীর সভাপতি খোরশেদ আলম। সমাবেশে মিরপুর এলাকার বিভিন্ন স্কুলের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স-এর প্রোগ্রাম কো-অডিনেটর শাফিয়া সামি।
সমাবেশ থেকে দাবি তোলা হয় যে, যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। শিশুর প্রতি ধর্ষণ ও সহিংসতা বন্ধে আইনের বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন পর্ণোসাইট ও বিদেশি চ্যানেল যেখানে সহিংসতার ঘটনা দেখানো হয় তা বন্ধ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করার নির্দেশ প্রদান এবং স্কুল পাঠ্যসূচিতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বিষয় রাখা; নারী ও মেয়ে শিশুদের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রচার না করার জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিঠি প্রদান করা; কমিউনিটি পর্যায় কর্মজীবী বাবা-মার সন্তানদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরকারি পর্যায় থেকে উদ্যোগ নিতে হবে।
