সরকারি জমি দখল করে কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ 

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৩, ২১:০১

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি খাল এবং ফসলি জমি দখল করে নির্মাণ হচ্ছে বিভিন্ন কলকারখানা। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের দুইপাশে কলকারখানার দূষিত বর্জ্য এবং ময়লা-আবর্জনা নদীর পানিতে ফেলার নামে সরকারি খাল ও জনসাধারণের ফসলি জমি দখল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম মহাসড়ক। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলা ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের ২২ জেলার যানবাহন চলাচল করছে। মহাসড়ককে ঘিরে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে শতাধিক কলকারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানার দূষিত বর্জ্য এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্মাণ হয়নি ওয়াটার স্ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। 

কলকারখানার দূষিত ময়লা আশেপাশের খোলা স্থানে এবং নদীতে ফেলার কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কলকারখানার ময়লা আবর্জনা রাতের আধারে বংশাই নদী এবং সোহাগপাড়া খাল এবং লৌহজং নদীতেও ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগবালাই। দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে কলকারখানার এসব পাইপ স্থানের ফলে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পরেছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, খাল ও নদীর পানি স্বচ্ছ রাখার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কলকারখানার দূষিত ময়লা আবর্জনা পাইপের মাধ্যমে নদীতে ফেলা হলে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার টাঙ্গাইল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ বলেন, কোনো কারখানার মালিক খাল ও ফসলি জমি দখল করে ময়লা ফেলার জন্য পাইপ স্থাপন করতে পারবে না। এটা তাদরে নিজস্ব কারখানায় স্থাপন করতে হবে। এলাকার পরিবেশ সুন্দর এবং খালের পানি যেন সাধারণ জনগণ ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য ময়লা আবর্জনা না ফেলে খাল ও নদী রক্ষা করতে হবে। কেউ অভিযোগ দিলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে খাল-নদীর সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। 

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুচী রানী সাহা বলেন, সরকারি খাল এবং তিন ফসলি জমি দখল করে কোনো কারখানার দূষিত ময়লা নদীতে ফেলার জন্য পাইপ স্থাপন করতে পারবে না। তদন্ত সাপেক্ষ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এবি/পিও