চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক কনটেইনার হ্যান্ডলিং রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। গত মে মাস পর্যন্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিং বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দেড় লাখ কম হয়েছে। একইভাবে মে পর্যন্ত কার্গো হ্যান্ডলিংও অনেক কমে গেছে। কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং কমার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজ সংখ্যাও কমে গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের শুরুতে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং সবচেয়ে কম হয়েছে। আবার এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে কম হ্যান্ডলিং হয়েছে। অন্যদিকে দেখা যায়, বছরের প্রথম তিন মাসে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং কম হলেও এপ্রিল থেকে হ্যান্ডলিং বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত মে মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চসংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৮৫৬টি। অথচ গত ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২ লাখ ৯১ হাজার ৮৯৩টি। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪০টি। অথচ গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৩১টি। চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে গত মে মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩১টি।
এদিকে চলতি জুন মাসের ২৫ দিনে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫২টি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭১টি। অন্যদিকে গত ২০২২ সালে একই সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৫ হাজার।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক কার্গো বা খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৯৮ লাখ টন। অন্যদিকে গত ২০২২ সালের একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৫ কোটি ২৫ লাখ টন। আবার চলতি বছরের মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ১ হাজার ৭১৩টি জাহাজের পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল। অথচ গত বছর অর্থাত্ ২০২২ সালের মে পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে জাহাজ সংখ্যা হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল ১ হাজার ৮২২টি। চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকার কর্তৃক বিপুলসংখ্যক বিলাসসামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করায় আমদানির ক্ষেত্রে ধস নেমেছে। এর কারণে ব্যাংকগুলোও ঐ সব পণ্যের ঋণপত্র খুলতে তেমন একটা দেখা যায়নি। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া দেশের ব্যাংকগুলোতে ডলারসংকট ও আমদানি কম হওয়ার অন্যতম কারণ বলে বন্দর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে গত রমজান এবং কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন পণ্য আমদানির এলসি বা ঋণপত্র খোলা বেড়ে যায়। আবার বাজেটের প্রতি লক্ষ রেখে ব্যবসায়ীরা অনেক পণ্যের এলসি খোলে। ফলে এপ্রিল থেকে দেশে আমদানি বেড়ে যায়। গত মে ও চলতি জুন মাসে আমদানির পরিমাণ আগের মাসগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে।
