পটুয়াখালীর বাউফলে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ কমপক্ষে ১৯ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে গেলে চোখে মরিচের গুঁড়া মেরে ১০ রাউন্ড গুলিসহ পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে নেয় একদল সন্ত্রাসী। পরে আলম হাওলাদার নামের একজনকে আটক করে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির পেছনের একটি নারিকেল গাছ থেকে গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার করা হয়। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার নাজিরপুর ইউপির বড় ডালিমা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড় ডালিমা গ্রামের হাকিম হাওলাদারদের সঙ্গে একই বাড়ির কামাল হোসেন গংদের ১৯ একর ৫৪ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে কামাল হোসেন প্রায় ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে ওই বিরোধীয় জমি চাষ করতে যায়। হাকিম হাওলাদার এ ঘটনা বাউফল থানাকে জানালে ঘটনাস্থলে তিনজন পুলিশ যায়। এ সময় কামাল হোসেনের পক্ষের ফারুক হাওলাদারের স্ত্রী খাদিজা বেগম পুলিশের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় এবং ফিরোজ হাওলাদার নামের একজন এক এ এস আইয়ের কোমর থেকে ১০ রাউন্ড গুলিসহ পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। পরে খবর পেয়ে ওসি খন্দোকার মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায়। এ সময় পার্শ্ববর্তী কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস এম ফয়সাল আহমেদ মনির হোসেন মোল্লা ও নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুকের সহযোগিতায় দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর ফিরোজের বাড়ির একটি নারিকেল গাছ থেকে লুণ্ঠিত গুলি ও পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বিরোধীয় জমিতে পুলিশের সামনেই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৬ জন আহত হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং চারজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাউফল থানার ওসি জানান, অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
