ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো দুই মাস বৃদ্ধি করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ মে হাইকোর্ট ঐ প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়। গত ১৬ মে জারিকৃত ঐ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঋণখেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃ তফসিল করতে পারবেন। পুনঃ তফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। এক্ষেত্রে প্রথম এক বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না। এদিকে গতকাল হাইকোর্টে ঋণখেলাপিদের তালিকা দাখিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দুইটি সিলগালা খামে এই তালিকা আদালতে দাখিল করেন ব্যাংকের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। তবে তালিকায় কার কার নাম আছে তা প্রকাশ করা হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, এ পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণসহ মোট ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণের হিসাব দেওয়া হয়েছে ঐ প্রতিবেদনে। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে আদালতের আদেশে আটকে আছে ৮০ হাজার কোটি টাকা। আর অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১০ হাজার ৪৭৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, কেন খেলাপিদের তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে? অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মানসম্মানের বিষয়টি জড়িত।
