খুলনার দাকোপে সুতারখালী নদীতে খেপলা জাল দিয়ে খাবার মাছ ধরার সময় খায়রুল ইসলাম মোড়ল (২২) নামে এক যুবককে কুমিরে পা ধরে টেনে নিয়ে যায়। দুই দিন পর বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকালে নদীতে তার লাশ ভেসে ওঠে।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) দিনগত রাত ৮টার দিকে পশ্চিম সুন্দরবনের কালাবগি ফরেষ্ট স্টেশনের ঝুলন্তপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগি এলাকার আরশাদ মোড়লের ছেলে।
জানা গেছে, সুতারখালী ইউনিয়নের দক্ষিণে শেষ জনপদ কালাবগীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপগ্রাম ফকিরকোনা। গ্রামটির পাশে সুতারখালী, ও শিবসা নদী আর ওপারে সুন্দরবন। সুন্দরবনসংলগ্ন সবচেয়ে কাছের জনবসতিগুলোর একটি এই ফকিরকোনা। সেখানে নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ। গ্রামের মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। বনে যাওয়া বন্ধের সময়টাতে নদীতে মাছ ধরে কোনো মতে সংসার চালান তারা।
ইউপি সদস্য শেখ মহাসিন আলী জানান, খায়রুল তার এক বোন ছকিনা বেগমকে (বুলবুলি) নিয়ে সুতারখালী নদীর তীরে খেপলা জাল টেনে খাবার মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ একটি কুমির খায়রুলকে ধরে পানির মধ্যে নিয়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা বুলবুলির চিৎকারে এলাকার লোকজন এসে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। এমন সময় খায়রুলকে মুখে নিয়ে কুমিরটি নদীর চরে ওঠে। তখন কুমিরের মুখ থেকে খায়রুলকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে কুমিরটি আবারও পানিতে ডুব দেয়। কিছুক্ষণ পর আবার কুমিরটি ভেসে ওঠে। তখন কুমিরের মুখে খায়রুলকে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে খায়রুলকে কুমিরটি খেয়ে ফেলতে পারে।
ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, এ বিষয়ে নৌ পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তারা আসতে চেয়েছে। পুলিশ আসার পর দাফন সম্পন্ন হবে।
