ঘিওরে সড়ক চলাচলে দুর্ভোগ

রাস্তায় খোয়া ফেলে লাপাত্তা ঠিকাদার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩, ১৮:২৯

মানিকগঞ্জের ঘিওরের গোলাপনগর, কৃষ্ণপুর ও কাহেতারা কাঁচা রাস্তা পাকা করতে রাস্তায় ইটের খোয়া ফেলে এক বছর ধরে লাপাত্তা হয়ে আছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে ওই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঘিওর সদর ও বড়টিয়া ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষ।

বিকল্প রাস্তা ঘুরে এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী আনা ও নেওয়া করতে তিন গুণ বেশি পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।

ঘিওর উপজেলা এলজিএডি কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘিওর ইউনিয়নের গোলাপনগর থেকে কৃষ্ণপুর ও কাহেতারা ভায়া বড়টিয়া জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি কাঁচা ছিল। গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় (ইম্প্রুভমেন্টাল রুরাল রোড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট আইআরআরডিপি-থ্রি) সাড়ে তিন কিলোমিটার এ রাস্তাটির পাকাকরণে বরাদ্দ দেওয়া হয় তিন কোটি ১৬ লাখ টাকা। নির্মাণ কাজ পান মেসার্স এমএই অ্যান্ড এমএমসিকেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছর ১ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ করে রাস্তাটি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ছিল গত বছরের ১৫ মে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধু মাটি খুঁড়ে এবং কিছু স্থানে খোয়া ফেলে রেখে দিয়েছেন। এক বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে পানি জমে আছে। কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

গোলাপনগর গ্রামের শিক্ষক আব্দুর রহমান ওয়ায়েসী বলেন, দীর্ঘদিন রাস্তা মেরামতের কাজটি বন্ধ থাকায় গ্রামের লোকজনের চলাচলের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় সেকেন আলী ও বাহেজ উদ্দিন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, উপজেলা হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা সদরে আসা লোকজনকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। জরুরি রোগীকে ঘিওর হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

কাহেতারা গ্রামের কুব্বাত মেম্বারসহ অনেকেই বলেন, আমাদের আগের কাঁচা রাস্তা দিয়ে তবুও চলাচল করতে পারতাম। পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী অনেক খুশি হয়েছিল। কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার উধাও হওয়ায় রাস্তার বেহাল দশায় এখন দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু করার জন্য বহুবার উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা বলছেন ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।

বড়টিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামসুল আলম মোল্লা রওশন বলেন, ঘিওর ও বড়টিয়া এই দুই ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটির কাজ শেষ হলে কমপক্ষে ১০ গ্রামবাসীর যোগাযোগ সহজ হতো। কিন্তু কী কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন তা জানি না।

উপজেলা প্রকৌশলীকে বারবার অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মেসার্স এমএই অ্যান্ড এমএমসিকেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক শেখ মাসুদ মোবাইল ফোনে বলেন, এই রাস্তার কাজটিতে আমি প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয় করেছি। কিন্তু করোনা মহামারি সময় থেকে রড, সিমেন্টসহ যাবতীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আমি কাজটি বন্ধ করেছি। জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিক না হলে দরপত্রের মূল্য বৃদ্ধি করলে রাস্তার কাজ শুরু করব। বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের মে মাসে এই রাস্তার কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেশি থাকার কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি রাস্তাটির কাজ বন্ধ রেখেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করে নতুন রেট শিডিউল দিয়ে রাস্তার কাজ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইত্তেফাক/আরএজে