এবার দুজনে দুজনকে তির ছুড়ে মারলেন। এই তিরে কেউ রক্তাক্ত হননি, জখম হননি। ভালোবাসার তির বিদ্ধ হয়ে দিলে জখম হয়েছে। এই তিরে জীবনে চলার পথে একসঙ্গে এ দুই দেশসেরা আর্চার এবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে নীলফামারীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে জমকালো আয়োজনে এ দুই তারকা আর্চারের বিয়ে হয়। দিয়ার বাড়ি নীলফামারী শহরেই। আর রোমানের বাড়ি খুলনায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে দিয়ার মোহরানা নিয়ে কোনো দাবিই ছিল না। তবে রোমানের পরিবার বিয়ে রেজিস্ট্রি করার সময় ৫ লাখ টাকা লিখিয়েছেন। তার মধ্যে নগদ ২ লাখ টাকার সোনার গহনা দেওয়া হয় দিয়াকে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের স্বজনেরা ছাড়াও নীলফামারী পৌর মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান দিপু, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রশিদুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সহসাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম কিরন, ট্রেনিং অ্যান্ড আরচারি ডেভেলপমেন্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মো. ফারুক ঢালী, জার্মান কোচ মার্টিন ফেড্রিক।
দিয়া সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও নিজের পরিবারের সবাইকে যে একসঙ্গে করতে পেরেছি, এর জন্য অনেক খুশি। দোয়া করবেন যেন দাম্পত্য জীবন সুখে কাটাতে পারি। একই কথা বললেন রোমান সানা। আনসারে ল্যান্স নায়েক পদে আছেন রোমান। দিয়া বিকেএসপির পাট চুকিয়ে এ বছরই যোগ দিয়েছেন আনসারে।
নীলফামারী জেলা সদরে উকিলের মোড়ে দিয়াদের বাড়ি। তার বাবা নূর আলম সিদ্দিকী একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি। দিয়া খেলার মতো পড়াশোনায়ও সফল। এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তিন ভাইবোনের মধ্যে দিয়া সবার বড়। মেয়ের পছন্দের মানুষকে তার জীবনসঙ্গী করতে পারার আনন্দ ছিল বাবার চোখেমুখে। তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরেই এ ব্যাপারে দুই পরিবারের মধ্যে কথা চলছিল। অবশেষে চূড়ান্তভাবে বিয়ে সম্পন্ন হলো।
রোমানের বাবা আব্দুল গফুর সানা বলেন, ওদের (রোমান-দিয়া) বিয়ে হয়ে গেল। আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা খুলনায় যাব। ৮ জুলাই আমাদের বাড়িতে হবে বৌভাত। আর্চারি খেলোয়াড় হওয়ার সুবাদেই দিয়ার পরিচয় হয় রোমান সানার সঙ্গে। সেই পরিচয় পরে প্রেমে রূপ নেয়। কিন্তু মাঝে দুই জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছিল। রোমান সানাকে দুই বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছিল বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন। ফেডারেশন কর্মকর্তারাও মনে করছেন, এখন সব ঠিকঠাক থাকলেই তারা খুশি।

