তামিমের ছোট চাচা আফজাল খান ইত্তেফাককে জানান, হঠাৎ করে তামিমের এই সিদ্ধান্ত আমাকে অবাক করেছে। এটা মেনে নিতে পারছি না। আমি চাই সে আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুক।
আফজাল আরও জানান, টাওয়ার ইন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই কাজির দেউরির বাসায় চলে আসেন তামিম। এখন বাসায় বিশ্রাম করছেন। কারো সঙ্গে কথা বলছেন না।
চট্টগ্রামেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়েছিল তামিমের। সেই চট্টগ্রামে বসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে অশ্রুসজল চোখে তামিম বলেছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকালের ম্যাচটিই আমার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। এই মুহূর্ত থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছি। সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া নয়। অনেক দিন ধরেই আমি এটা নিয়ে ভাবছি। পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছি এটা নিয়ে।
২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কেনিয়ার বিপক্ষে দেশের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচ খেলেছিলেন তামিম। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের ঘরের মাঠে এই সংস্করণেই তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন তামিম। আফগানদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে পুরোপুরি ফিট না হলেও প্রথম ম্যাচে খেলার কথা বলেছিলেন টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়ক। তার কথাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তামিম কোন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এমন কথা বলল। আমি কোচের সঙ্গে কথা বলেছি। কোচও এমন পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। সেও ক্ষুব্ধ। তামিমকে আসলে পরিষ্কার করে জানাতে হবে সে আসলে কী চায়। কোন পর্যায়ে আছে সে। দেখি আমি ম্যাচ দেখতে চট্টগ্রামে যাবো।
তামিমকে কেন্দ্র করেই আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু অধিনায়কের হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে বেশ বিপাকেই পড়তে হচ্ছে তাদের। এই দুই টুর্নামেন্টে ভালো করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকেরা। তামিমের এমন সিদ্ধান্তে কতটা কাটিয়ে উঠতে পারে দল। এখন এটাই সবচেয়ে বড় ভাবনার বিষয়।
