তিন বছরের নির্মাণযজ্ঞ, অতঃপর...

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫৮

নির্মাণের শুরু থেকেই বেশ আলোচিত থাগস অব হিন্দুস্তান। এর পেছনে তিনটি কারণ। ব্রিটিশ শাসন আমলের গল্প, বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও আমির খান একইপর্দায় এবং রেকর্ড পরিমাণ বাজেট! ৮ নভেম্বর মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। প্রথম দু-দিনে ৮১ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করলেও বাজেট উসুল না হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে সিনেমাটি। কারণ দুর্বল স্ক্রিপ্ট। তবুও এই ছবির নির্মাণ নিয়ে দর্শকদের জানার আগ্রহ প্রবল!

১৭৯৫ সালে ব্রিটিশ শাসন আমলে ঠগিদের গল্প নিয়েই নির্মিত সিনেমাটি। ভারতে ঠগিরা ব্রিটিশদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সময়ে এসে ওই শাসন আমলের গল্প উপস্থাপন করা সত্যিই কষ্টকর ছিল। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি ছিল ঐতিহাসিক সময়কে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। আর তাই ছবির শুটিং শুরু হওয়ার তিন বছর আগে প্রডাকশন এবং কস্টিউম ডিজাইনাররা কাজ শুরু করেছিলেন। প্রডাকশন ডিজাইনার ছিলেন সুমিত বসু আর কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন মানসী নাথ ও রুশি শর্মা। নৌযুদ্ধই এই সিনেমার মূলভিত্তি। সেজন্য পুরো একটি জাহাজই তৈরি করা হয়। সিনেমা তৈরিতে এ জাহাজই ছিল সবচেয়ে বড় কাজ। সুমিত বসু ছিলেন এ জাহাজ নির্মাণের মূল কারিগর। এই জাহাজটির নকশা করা শুরু হয় ২০১৫ সালে। সেই ডিজাইন নিয়ে অনেক গবেষণা করার পর পেশাদার প্রতিষ্ঠানকে জাহাজ নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জাহাজ নির্মাণের সময় দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একটি হলো জাহাজের আকার, অন্যটি হলো এটা পানিতে কীভাবে কাজ করবে। মাল্টার জাহাজ নির্মাতা এবং প্রকৌশলীরা জাহাজটি নির্মাণ করেন। এছাড়া ছবিটিতে বিভিন্ন স্থাপত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিনেমায় ভারতের অওধ-এর প্রেক্ষাপট আছে। তাই সিনেমা সংশ্লিষ্টরা অওধের স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। এখানে স্থাপত্যের নকশা নিয়ে কোনো সৃষ্টিশীলতা দেখানো হয়নি, বরং তারা মূলকেই অনুসরণ করেছেন। সিনেমার এ প্রেক্ষাপট নির্মাণের কাজ নিয়ে নির্মাতারা খুব সতর্ক ছিলেন।

থাগস অব হিন্দুস্তানের শুটিং হয়েছে ১ বছরের কিছু বেশি সময়। কিন্তু সিনেমার কাজ হয়েছে আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে। আন্তর্জাতিকমানের সঙ্গে মিলিয়ে এ ছবি নির্মাণ করা হয়েছে। সিনেমায় ব্যবহূত প্রতিটি জুতা, পোশাক, অস্ত্র, অলঙ্কার নিজেস্ব উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে।