আত্মসমর্পণের পর চালক বলেন ‘আমি অনুতপ্ত ও ক্ষমা চাচ্ছি’

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৩, ১৩:১৭

যশোরে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংঘর্ষে সাত জনের নিহতের ঘটনায় বাস চালক আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার (৮ জুলাই) তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

এর আগে শনিবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের মধ্যস্থতায় তিনি যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় আত্মসর্মপন করেন।

বাস চালক মিজানুর রহমান (৪০) বাঘারপাড়া উপজেলার পাঠান পাইকপাড়ার নজরুল শেখের ছেলে এবং যশোর ও মাগুরা সড়কের স্থানীয় লোকাল রয়েল পরিবহনের চালক।

শনিবার রাতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) বেলাল হোসাইন বলেন, ঘটনার পর রয়েল পরিবহনের বাসটি জব্দ করি। একই সঙ্গে পরিবহন চালককে আটকের চেষ্টা করি। যশোরের পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সেই ঘাতক চালককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা এ দুর্ঘটনা মামলায়  তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছি। রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

এদিকে দুর্ঘটনা কিভাবে ঘটেছিল জানতে চাইলে বাসচালক মিজানুর রহমান বলেন, এই দুর্ঘটনা আমি ইচ্ছা করে ঘটাইনি। হঠাৎ করেই ইজিবাইকটি আমার গাড়ির সামনে চলে আসে। ইজিবাইকটি দেখে দ্রুত ব্রেক মারি। দ্রুত ব্রেক করার কারণে গাড়ির পাতির (ব্রেক মেশিন) ভেঙে যায়। গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারিনি। ফলে ইজিবাইকটিতে ধাক্কা লাগে।

যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের মধ্যস্থতায় আত্মসমর্পণ মিজানুর। ছবি: ইত্তেফাক  

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পরে আমি বাস থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করি। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আটক করে রাখে। পরে সেই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ৫০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দিবে এমন প্রতিশ্রুতিতে রাজি হয়ে আমি পালিয়ে যাই। ঘটনার পর থেকে আমি যশোরসহ বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলাম। এই ঘটনায় আমি অনুতপ্ত ও ক্ষমা চাচ্ছি। কোনো চালকই ইচ্ছা করে কোনো প্রাণ কেড়ে নেয় না।

আত্মসমর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বাস মালিক সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি সরোয়ার হোসেন, জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠুসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

শুক্রবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় যশোর ও মাগুরা মহাসড়কের লেবুতলা তেঁতুলতলা বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু, নারীসহ সাতজন। এর মধ্যে যাদবপুরে একই পরিবারে পাঁচজন। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে দুইজন।

 

ইত্তেফাক/আরএজে