সিনিয়র বুশের ঘটনাবহুল জীবন

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৪

৯৪ বছরের অতুলনীয় এক জীবনের অবসান ঘটল। এভাবেই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের মৃত্যু সংবাদ জানালেন তার ছেলে-মেয়েরা। বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকা

শুক্রবার মারা গেলেন জর্জ হারবার্ট ওয়াকার বুশ। স্নায়ুযুদ্ধের শেষের দিকে রাষ্ট্রনেতা হিসাবে আমেরিকাকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য থেকে টেনে তুলেছিলেন। গোটা বিশ্ব সেজন্যও তাকে মনে রাখবে। তবে তার ছেলে আর এক প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ জানিয়েছেন, তারা এক পিতাকে হারালেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “জেব, নিল, মার্ভিন, ডোরো আর আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ৯৪ বছরের অনন্য সাধারণ জীবনের অবসান ঘটল। আমাদের বাবা মারা গেলেন।”

গত এপ্রিলেই মারা গিয়েছিলেন স্ত্রী বারবারা বুশ। ৭৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের সেই সঙ্গীকে ‘দুনিয়ার প্রিয় নারী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই চলে গেলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে তুখোড় বিদেশনীতির জন্য পরিচিতি লাভ করেছিলেন বুশ।

গত শতকের আটের দশকে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই ঘটনাবহুল ছিল তার রাজনৈতিক জীবন। ১৯৮৯-এ তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়া এবং এর বছর দুই পরে ইরাকি লৌহমানব সাদ্দাম হুসেনকে পরাজিত করা- এত কিছু সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয়বারের জন্য আমেরিকার সর্বোচ্চ পদে জিততে পারেননি প্রাক্তন সিআইএ প্রধান বুশ। ১৯৯২-তে দেশের বেহাল আর্থিক দশার সময়ে তাকে হারিয়েই প্রেসিডেন্ট পদে এসেছিলেন বিল ক্লিনটন।

১৯২৪ সালের ১২ জুন আমেরিকার ম্যাসাচুসেটেসর মিলটন শহরে জন্ম জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের। অভিজাত পরিবারের মধ্যে শুরু থেকেই রাজনৈতিক আবহ ছিল। বাবা প্রেসকট বুশ ছিলেন ব্যাঙ্কার। পরে যিনি কানেকটিকাটের সিনেটর হিসাবে মার্কিন কংগ্রেসেও নির্বাচিত হন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিলাভের আগেই মাত্র আঠারো বছরে মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন বুশ। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেনানী হিসাবে দায়িত্ব সেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এরই মধ্যে ১৯৪৫-এ বিয়ে করেন বারবার পিয়ার্সকে। তাদের ছ’সন্তান হয়। তবে শৈশবেই মারা যায় রবিন নামে এক সন্তান।ব্যাঙ্কার হিসাবে কর্মজীবন শুরু না করে এক সময় সকলকে অবাক করে পশ্চিম টেক্সাসে তেলের ব্যবসা শুরু করেন। তাতে সাফল্যও মেলে। ১৯৫৮-এর মধ্যে হিউস্টনে অফশোর ড্রিলিং সংস্থার প্রেসিডেন্ট হন তিনি।