পূর্ণাঙ্গ সফরের প্রথম ধাপে গেল মাসে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল আফগানিস্তান। আর সে সময় রেকর্ড ব্যবধানে হেরে দেশে ফিরে যায় তারা। এরপর ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এসেই করেছে বাজিমাত। প্রথমবারের মতো লাল-সবুজদের বিপক্ষে পেয়েছে সিরিজ জয়ের স্বাদ, তাদের সামনে হাতছানি রয়েছে টাইগারদের ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার হাতছানিও।
তবে এত কিছু সহজেই অর্জন করেনি তারা। আফগানদের করতে হয়েছে কঠিন পরিশ্রম। আজ মঙ্গলবার সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামার আগে গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আফগানদের হাড়ভাঙা সেই পরিশ্রমেরই কথা শুনিয়েছেন দলের প্রধান বোলিং কোচ হামিদ হাসান। এ সময় তিনি প্রকাশ্যে এনেছেন প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বাংলাদেশে আসার মাঝের সময়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে কী কী করেছেন তারা।
এর আগে দুই বার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল আফগানরা। আর দুই বারই ২-১ ব্যবধানে হেরেছিলো তারা। তবে এবার এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করে নিয়েছে আফগানরা। আর এই জয়ের জন্য ঈদের ছুটি বাদ দিয়ে আবুধাবিতে অনুশীলন করেছে আফগানিস্তান। এই হাড়ভাঙা পরিশ্রমই তাদের সিরিজ জয়ের দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করেন আফগান বোলিং কোচ। তিনি বলেন, ‘তাদের (বাংলাদেশকে) সহজে হারাইনি। এটার জন্য আমাদের অনেক অনুশীলন করতে হয়েছে এবং এভাবেই আমরা তৈরি হয়েছি।’
এ সময় কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের কারণেই সিরিজ জিততে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশকে তাদের মাটিতে হারানো আমার মনে হয় না সহজ কাজ। কিন্তু এর পেছনেও আমরা অনেক কাজ করেছি। আমরা প্রতিদিন পাঁচ-ছয় ঘণ্টা অনুশীলন করেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে নিজেদের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ছিল। এটা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদি আপনার নিজের ওপর বিশ্বাস থাকে, তাহলে আপনি যে কাউকে হারাতে পারবেন।’
তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের এমন ভেঙে পড়া দেখে অবাক হয়েছেন হামিদ। কারণ গেল কয়েকটি সিরিজে বাংলাদেশ ব্যাটিং-বোলিং দুই ডিপার্টমেন্টেই দারুণ ছন্দে ছিল, শুধু তাই নয়, প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর বলতে গেলে শাসন চালিয়েই খেলেছে প্রতিটি ম্যাচে। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার ছিটেফোঁটাও নজরে আসেনি। উল্টো বাজে শট সিলেকশনের কারণে উইকেটে থিতু হওয়ার আগে ফিরতে হচ্ছে সাজঘরে। আর টাইগারদের এমন বাজে ফর্মেও নিজেদের সাফল্যই দেখছেন আফগান বোলিং কোচ। শুধু তাই নয়, তার মধ্যে এই সিরিজে বাংলাদেশ থেকে এক ধাপ এগিয়েই ছিলেন তারা। বলেন, ‘আমরা কিছুটা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছি। তাদের চেয়ে সম্ভবত এক ধাপ এগিয়ে ছিলাম আমরা। এ কারণেই তারা আমাদের বোলারদের ধরতে পারেনি অথবা ব্যাটারদের থামাতে পারেনি। এটাই সম্ভবত মূল বিষয় ছিল, আমরা ভেবেছি আমরা বাংলাদেশের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে এবং ফলাফল আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন।’
