পাকিস্তানকে অবশেষে ঋণ দিতে চূড়ান্তভাবে রাজি হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ইতোমধ্যে কর্মকর্তা পর্যায়ে চুক্তিও শেষ করেছে দুই পক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঙ্কট-বিধ্বস্ত দেশটি প্রথম ধাপে প্রায় ১২০ কোটি ডলার পাবে। বাকিটা আগামী নয় মাসের মধ্যে আইএমএফ হস্তান্তর করবে। ঋণ খেলাপি হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান। দেশটির কাছে এক মাসের আমদানির জন্য বিদেশি মুদ্রায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিল না।
চলতি সপ্তাহে মিত্র সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকেও তহবিল পেয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানকে জরুরি সহায়তা ঋণ দেওয়া নিয়ে আইএফএমের কর্মকর্তা নাথান পর্টার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি এটি ঘোষণা করতে পেরে খুবই আনন্দিত হচ্ছি যে পাকিস্তানি ও আইএমএফ কর্মকর্তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে আলোচনার পর জরুরি সহায়তানীতির মাধ্যমে পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলার দেওয়ার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’
দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ বছর মূল্যস্ফীতি বেড়ে পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, যেমন- পেঁয়াজ, মুরগির মাংস, ডিম, চাল, সিগারেট ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। এই ঋণ পাওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটির সার্বভৌম ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি মুক্ত হবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব পাকিস্তানের অর্থ দরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুরতাজা সৈয়দ রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে যাওয়ায় ঋণ না পেলে ধুঁকতে হবে পাকিস্তানকে।
