হজ-পরবর্তী পুণ্যময় জীবনের সূচনা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৩, ০৯:২৮

মুমিনের জীবনে হজের প্রেমময় সফর নিঃসন্দেহে তাত্পর্যময়। বাইতুল্লাহর মেহমান হতে পারা সত্যিই পরম সৌভাগ্যের। যদি হাজিগণ পুণ্যময় এই সফরের মাধ্যমে স্থায়ী কল্যাণ অর্জন করতে চান, তাহলে প্রত্যেক হাজিকে হজ থেকে ফিরে এসে হজের প্রকৃত শিক্ষা জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে অনুশীলন করতে হবে।

বাইতুল্লাহ জিয়ারতের মাধ্যমে পুণ্যময় এক জীবনের শপথ নেন হাজিগণ। শপথ নেন ধৈর্য, উদারতা ও হালাল রুজির। আরাফার সেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের মাধ্যমে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন যে, বিদায় হজে রসুলে আরাবি (স.)-এর দেওয়া ভাষণের মর্মবাণীগুলো পরবর্তী জীবনে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। অন্তর থেকে মুছে ফেলবেন দাম্ভিকতার কালিমা। কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে দৃঢ়সংকল্প গ্রহণ করেন যে, বিতাড়িত শয়তানের সব ধরনের ধোঁকা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। কোরবানির মাধ্যমে শিক্ষা নেন যে নিজের পশুত্বকে বিসর্জন দেবেন। মদিনায় গিয়ে প্রিয়নবি (স.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ, অর্থনীতি, রাষ্ট্র তথা ইহজগতে যাপিত জীবনের প্রতিটি স্তরে রসুল (স.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের ইস্পাতকঠিন দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, হজ থেকে ফিরে এসে অনেক হাজি সেই শপথ, সংকল্প, ওয়াদা ও অঙ্গীকারের কথা বেমালুম ভুলে যান। শয়তানের ধোঁকায় এবং পার্থিব দুনিয়ার মোহে হাজারও গুনাহের জালে জড়িয়ে পড়েন।

পক্ষান্তরে অনেক হাজি এমনও রয়েছেন, যাদের হজ কবুল হওয়ার ব্যাপারে তাদের হজ-পরবর্তী জীবন সাক্ষ্য দেয়। তারা ঐ সব হাজি, যারা হজের পরে কাযেকর্মে, আমল-আখলাকে, চিন্তা-চেতনায় পরিশুদ্ধি অর্জন করেন বা আগের চেয়ে উন্নতি লাভ করেন। ‘হজ করার পর যার জীবনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি, তার হজ কবুল হওয়ার বিষয়টি সন্দেহমুক্ত নয়।’ (আপকে মাসায়েল, খণ্ড:৪, পৃষ্ঠা:২৫)। রসুলুল্লাহ (স.) বলেন, হজ ও ওমরাহের জন্য গমনকারী ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার বিশেষ মেহমান। তিনি দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। কবুল হজের মাধ্যমে মানুষ নিষ্পাপ হয়ে যায়। (মুসলিম, তিরমিজি, মিশকাত)। যার হজ কবুল হবে, হজের পরও ৪০ দিন পর্যন্ত তার দোয়া কবুল হবে; এমনকি যত দিন তিনি গুনাহে লিপ্ত না হবেন, তত দিন তার সব দোয়া কবুল হতেই থাকবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ

ইত্তেফাক/কেকে