ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দায় কার, ডিসিসির ভূমিকা নিয়ে নগরবাসীর প্রশ্ন

শুধু ডেঙ্গুর সিজনে নয়, মশা নিধনে সারা বছরই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম দাবি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৩, ০২:৫৫

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে মৃত্যুও বাড়ছে। আর এই ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা দমনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নগরবাসী। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, তারা তাদের সাধ্যমতো মশক দমনে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বাসাবাড়িসহ নির্মাণাধীন ভবনে জমা পানি থাকায় সেখানে এডিস মশা জন্ম নিচ্ছে। এ কারণে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে। গত কয়েক দিনে লার্ভা পাওয়া বিভিন্ন ভবনসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করেছে সিটি করপোরেশন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকে আরো সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, এডিস মশা জন্ম নেয় স্বচ্ছ পানিতে। আর সিটি করপোরেশনকে কেবল ডেঙ্গুর সিজনে নয়, মশা নিধনে সারা বছরই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম থাকা উচিত। কিন্তু সিটি করপোরেশন শুধু ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেই নড়ে চড়ে বসে। এই কাজে তাদের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

জানা যায়, দুই সিটি করপোরেশনের চলছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ অভিযান। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মশার লার্ভা পাওয়ায় লাখ লাখ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে।  এসব অভিযানে এডিস মশার ডিম বা লার্ভা শনাক্ত করা হচ্ছে খালি চোখে দেখে। সে অনুযায়ী করা হচ্ছে জরিমানা। মশার শ্রেণিবিন্যাস কিংবা লার্ভা পরীক্ষার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কোনো পরীক্ষাগার বা ল্যাব নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ল্যাবে মশার লার্ভা পরীক্ষা করা হয়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ল্যাবের মাধ্যমে মশার প্রজাতি চিহ্নিত করতে পারলে নিধনও সহজ হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশার প্রজাতি শনাক্ত হয় ল্যাবের পরীক্ষায়। সেই অনুপাতে কীটনাশক স্প্রে করার মাধ্যমে সুফল পাওয়া যায়।

অন্যদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, সিটি করপোরেশন লার্ভা ধ্বংসে জরিমানা করলেও কিছু কিছু জায়গায় মশক নিধন কর্মীদের একবারের জন্যও দেখা যায়নি। এয়ারপোর্ট আশকোনা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, আমার বাসা থেকে কাউন্সিলরের অফিস একদম পাশে কিন্তু তার পরেও এখানে মশক কর্মীদের স্প্রে বা ফগিং কিছু্ই করতে দেখা যায়নি। মিরপুর পীরেরবাগ এলাকার মাইকের গলির বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, এই গলিতে মশক দমন কর্মীদের স্প্রে বা ফগিং করতে কখনো দেখা যায়নি। দয়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, তাদের এলাকায় মশা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু মশক কর্মীদের দেখা মিলছে না। ডেঙ্গু রোগী দিন দিন বাড়ছে এই এলাকায়। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের মশক সুপারভাইজাররা অভিযোগ করেন, অনেক বাসাবাড়িতে এডিসের লার্ভা থাকলেও তাদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয় না। এতে তারা সেখানে স্প্রে করতে পারেন না। দুপক্ষের এমন পালটাপালটি অভিযোগের মাঝখানে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কিটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ, মশাবাহিত রোগের বিষয়ে গবেষণা, মশার কীটনাশক নিয়ে গবেষণা এবং বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ চালানোর জন্য দেশে একটি জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান হওয়া প্রয়োজন। সিটি করপোরেশন এখন যেভাবে তত্পরতা দেখাচ্ছে এটি বন্ধ করা চলবে না। বছরব্যাপী এই কাজ করতে হবে। প্রত্যেকটি বাড়িতে ১৫ দিন অন্তর অন্তর সিটি করপোরেশনের কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ঢাকা আগামী দুই মাস মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (অ. দা.) ডা. ফজলে শামসুল কবির  বলেন, লার্ভা এডিসের হোক আর কিউলেক্সের হোক, বাড়ির ভেতরে লার্ভা থাকা মানে বাড়ির ভেতরে পানি জমিয়ে রেখেছে। এটা একটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, তবে এ জন্য কিছুটা সময় লাগবে। নগরবাসীর কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা ব্যক্তি পর্যায়ে ও প্রতিষ্ঠানে নিজ নিজ আবাসস্থল একটু পরিষ্কার করুন। আমাদের সহযোগিতা করুন। ডিএনসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো. গোলাম মোস্তফা সারওয়ার বলেন, ‘ল্যাব স্থাপনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। তারা আমাদের এখানে একটি ল্যাব স্থাপনে সহযোগিতা করবে। আমরা নিয়মিত মশক দমন কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

ইত্তেফাক/এসটিএম