আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামার আগে টানা দুটি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। এরপর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিতে চায় বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টানা তৃতীয় সিরিজ জয়ের লক্ষ্য টাইগারদের। নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে শুধুমাত্র একবার টানা তিনটি সিরিজ জিতেছিলো বাংলাদেশ। ২০২১ সালে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিলো তারা।
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শেষ ওভারে করিম জানাতের হ্যাটট্রিকের পরও ২ উইকেটে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে-এই ফরম্যাটে শক্তিশালী দল হয়ে উঠার দক্ষতা দেখিয়েছে টাইগাররা। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তরুণ ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৪৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন হারের মুখে পড়ে তখনই ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন হৃদয়।
হৃদয়কে সমর্থন দিয়েছেন আরেক তরুণ ব্যাটার শামিম হোসেন পাটোয়ারী। আফগানদের স্পিন আক্রমণকে দারুণভাবে সামলে নিয়ে ৪৩ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়েন হৃদয় ও শামিম। তাদের দুর্দান্ত জুটিতেই জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। শামিমকে ৩৩ রানে শিকার করে জুটি ভাঙ্গেন রশিদ খান। অন্যপ্রান্তে চাপের মধ্যেও হাল ছাড়েননি হৃদয়।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের ৬ রানের দরকারে হ্যাটট্রিক করে আফগানিস্তানের আশা বাঁচিয়ে রাখেন করিম জানাত। তার চমকের পর বাউন্ডারি দিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন আরেক তরুণ শরিফুল ইসলাম। চাপের মধ্যে থেকেও এমন জয় ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিবে বলে জানান হৃদয়। এখন দেখার বিষয়, এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারে কি-না বাংলাদেশ।
গেল বছরও একই দলের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিতে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ তৈরি করেছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ হেরে যায় টাইগাররা। ম্যাচ শেষে হৃদয় বলেন, ‘যে দলই জিতুক না কেন এমন ম্যাচ সব খেলোয়াড়কেই আত্মবিশ্বাস দিবে। কারণ, এ ধরনের ম্যাচ খুব কমই হয়। আমি যে অবস্থায় ছিলাম, সেখান থেকে ম্যাচ শেষ করতে পেরে ভালো লাগছে। যখন এমন সুযোগ আসে, সব ব্যাটারেরই লক্ষ্য থাকে ম্যাচ শেষ করার। এটা করতে পেরে ভালো লাগছে।’
প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়-হারের ব্যবধান কমিয়েছে বাংলাদেশ। আফগানদের বিপক্ষে ১০ ম্যাচ খেলে চতুর্থ জয়ের স্বাদ নিয়েছে টাইগাররা। তবে এখনও ছয় জয় নিয়ে এগিয়ে আছে আফগানরা। ভেজা মাঠের কারণে বল গ্রিপ করতে এবং স্পিন করতে সমস্যা হয়েছিলো আফগানিস্তানের স্পিনারদের। ম্যাচ হারের জন্য এটিকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন রশিদ। কিন্তু যেভাবে লক্ষ্য তাড়া করেছেন হৃদয় এবং শামিম সেটি বাংলাদেশকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে।
রশিদ বলেন, ‘সত্যি বলতে মাঠ খুব ভেজা ছিল এবং ভেজা বলের কারণে আমরা নিজেদের শক্তির ৫০ শতাংশ হারিয়েছি। তারপরও আমরা ভাল বোলিং করেছি। সবমিলিয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে দল। আমাদের বোলিং ইউনিটের সঙ্গে এমন চেষ্টা যথেষ্ট ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে একটি ইনিংস আপনার হাতের মুঠো থেকে ম্যাচ বের করে নিতে পারে।’
