ক্যান্সার থেকে বাঁচতে দরকার সচেতনতা

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। এরমধ্যে বছরে মারা যায় ১ লাখেরও বেশি। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর তুলনায় মানসম্মত চিকিত্সা সুবিধা দেশে এখনও অপ্রতুল এবং ব্যয়বহুল। ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সমাজভিত্তিক ক্যান্সার সেবা সম্মেলনে’ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান। সম্মেলনের আয়োজন করে কমিউনিটি অনকোলজি ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমাদের দেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬২ ভাগই আসে অনেক দেরিতে, যখন চিকিত্সকদের তেমন কিছু করার থাকে না। এর কারণ হিসেবে সামাজিক ও ধর্মীয়গোড়ামীর কথা বলেন তারা। দ্বিতীয়ত রোগীরা হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নিয়ে অনেকটা সময় ব্যয় করেন বলে মন্তব্য তাদের। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যে কোনো ক্যান্সার শুরুতে চিকিত্সকের কাছে আসলে তা ভালো হওয়ার সম্ভবনা থাকে। কিন্তু রোগীরা তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরে আসলে আর কিছু করার থাকে না।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ক্যান্সার চিকিত্সা রাজধানীকেন্দ্রিক, সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা, বেসরকারি হাসপাতালের লাগামহীন উচ্চ ব্যয়, ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নির্ণয় সুবিধা যথেষ্ট গুরুত্ব না পাওয়ার কারণে প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে ক্যান্সার সেবা। সচেতনতা ও রোগ নির্ণয় সুবিধার অভাবের কারণে দেরিতে ক্যান্সার ধরা পড়ছে, বিলম্বিত চিকিত্সায় কাঙ্খিত রোগমুক্তি সম্ভব হচ্ছে না। আস্থার সঙ্কটে প্রচুর রোগী দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে অনেকেই। তিনি বলেন, এই অবস্থার উত্তরণ জরুরি। প্রচলিত ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। চিকিত্সা সুবিধার বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্যান্সার নির্ণয় সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো দরকার।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবেরা খাতুন। ধারণাপত্র তুলে ধরেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। কমিউনিটি অনকোলজি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম।