আলোকপাত

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কুঁচিয়া চাষ

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ২১:২৬

আমাদের দেশে অপ্রচলিত মাছের মধ্যে কুঁচিয়া অন্যতম একটি। আদিকাল থেকে বাংলাদেশে কুঁচিয়া পাওয়া গেলেও দেহের আকৃতি ও গর্তে বাস করায় স্বভাব এবং সাপের মতো দেখার কারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা একেবারে নেই। কিন্তু উপজাতীয় জনগোষ্ঠী ও অমুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে কুঁচিয়া মজাদার খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। স্বল্প জনগোষ্ঠীর কাছে কুঁচিয়ার চাহিদা থাকায় প্রাকৃতিকভাবে উত্পাদিত কুঁচিয়া দিয়ে প্রয়োজন মেটাত। পুষ্টিগুণে উঁচুমানের কুঁচিয়ার চাহিদা আমাদের দেশে কম থাকলেও বিদেশে এর চাহিদা বেশি থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের বিষয়টি সামনে রেখে এর উত্পাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের সিলেট, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কম গভীর যুক্ত বিল ও বোরো ধান খেতের আইলে জলজ আগাছার ঝোপঝাড়ে কুঁচিয়া পাওয়া যায়। বাংলাদেশে আবহাওয়া এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা কুঁচিয়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। প্রাকৃতিকভাবে উত্পাদিত কুঁচিয়া বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উত্পাদন কমে যাচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কুঁচিয়া রপ্তানি হচ্ছে। খাদ্য হিসেবে কুঁচিয়ার মান অনেক উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। এতে আমিষের পরিমাণ বেশি থাকে এবং খেতে বেশ সুস্বাদু। তাছাড়া কুঁচিয়ার রয়েছে ঔষধিগুণ। কুঁচিয়া দিয়ে বিদেশে ওষুধ তৈরি হচ্ছে। উচ্চরক্তচাপ কমাতে, হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে, শ্বাসকষ্ট দূর করতে এবং ব্যথানাশক হিসেবে কুঁচিয়ার রয়েছে বিশেষ গুণ। বিদেশের বাজারে কুঁচিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায় আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুঁচিয়ার চাষ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে কুঁচিয়া চাষ সম্পর্কে প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, ১৯৭৭ সালের দিকে সর্বপ্রথম কুঁচিয়া চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭৮ সালের দিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মত্স্য অধিদপ্তর পরীক্ষামূলকভাবে খাঁচায় কুঁচিয়া চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে মত্স্য অধিদপ্তর এবং ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টার এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল শেরপুর জেলায় প্রাকৃতিক জলজ ব্যবস্থায় কুঁচিয়া চাষ শুরু করে। বর্তমানে দেশের বেশ কিছু উদ্যোগী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুঁচিয়া চাষ শুরু করেছে। পুকুর বা জলাশয়ে কুঁচিয়া চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কুঁচিয়া চাষে বেশ সফল হয়েছে। আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুঁচিয়া চাষের বেশ সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ আমাদের দেশে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিস্তীর্ণ জলাভূমি রয়েছে। এসব জলাভূমিকে কুঁচিয়া চাষের আওতায় আনা যায়। এজন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং কুঁচিয়া চাষের ব্যাপারে বেকার তরুণ যুবকদেরকে উত্সাহিত করা। বাংলাদেশে কুঁচিয়া চাষ নতুন হলেও এশিয়ার বেশ কিছু দেশ যেমনঃ চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামে ব্যাপকভিত্তিতে কুঁচিয়া চাষ করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। আমরাও এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাই। আশা করছি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুচিয়া উত্পাদন সন্তোষজনক পর্যায়ে চলে আসবে। এজন্য দরকার ব্যাপক উদ্যোগ।

n লেখক :বিমা কর্মকর্তা