সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ‘লন্ডন টেলিগ্রাফ’ বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সাকিব আল হাসানকে এই পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপের দামি খেলোয়াড় হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। এটা সাকিবের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর—জাতি হিসাবে আমরাও এজন্য গর্বিত। টেলিগ্রাফ বলছে, ‘একটা দলের সেরা বোলার ও সেরা ব্যাটসম্যান একই খেলোয়াড়—এমন ঘটনা ইতিহাসেই বিরল।’ ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া এবং সাকিবের বিকেএসপি-তে ভর্তি হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুটি স্মরণীয় বাঁক বলে দাবি করেছে পত্রিকাটি। বলেছে, ‘এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বাইরের পৃথিবীতে বেশিরভাগ সময়েই তাঁর প্রাপ্য মূল্য পায় না।’ টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘সাকিবকে তাঁর প্রাপ্য মূল্য না দেওয়ার একটা প্রবণতা আছে—এটা অদ্ভুত। কারণ আইসিসি খেলোয়াড় র্যাংকিং ২০১৫ সালে একমাত্র ক্রিকেটার হিসাবে তিন ফরমেটের সবকটিতেই একইসঙ্গে শীর্ষস্থানে থাকা ব্যক্তিটির অবমূল্যায়ন একটা অন্তর্নিহিত সত্যি তুলে ধরেছে।’ শেষাংশে আক্ষেপের সুরেই টেলিগ্রাফ বলেছে, ‘তিনি এই খেলায় কোনো ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাই তাঁর বহুবিধ এই প্রতিভাকে সহজেই উপেক্ষা করে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ২০১১ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া কেবল একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশের সঙ্গে।’
টেলিগ্রাফের মূল্যায়নের সঙ্গে যোগ করতে চাই—চলতি বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের পারফরমেন্সে উন্নতির আরেকটি বিষয় হলো তাঁর ব্যাটিং অর্ডারে তৃতীয় স্থানে উত্তোরণ, যা তাঁরও কাঙ্ক্ষিত ছিল। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার জহির খান এবং বর্তমান ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্সা ভোগলে তাঁদের মূল্যবান আলোচনায় এটা উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আরো দুটি খেলা (ভারত ও পাকিস্তান) বাকি। এই দলগুলির বিপক্ষে খেলে ভালো ফল লাভের পাশাপাশি ওপরের সারির দলের অবস্থানের ওপর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেমিফাইনাল খেলার ভাগ্য নির্ভর করছে। টাইগাররা সেমিফাইনাল খেলুক— দেশবাসীর এটা প্রত্যাশা। এই পর্যন্ত মাশরাফির নেতৃত্বে তামিম-সৌম্য-সাকিব-মুশফিক-রিয়াদসহ অন্যরা অভাবনীয় লড়াকু পারফরমেন্স দেখিয়ে ক্রিকেটবিশ্বকে যে বার্তা দিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। টাইগারা তাদের খেলার মাধ্যমে ক্রিকেটবিশ্বের সমীহ অর্জনে সক্ষম হোক।
সেলিম হাফিজ, আহম্মদবাগ, বাসাবো ঢাকা
