ইনজুরি নিয়েই খেলছিলেন কয়েকটা ম্যাচ। কিন্তু হাঁটুর অবস্থার কিছুতেই উন্নতি হচ্ছিলো না। সবশেষে জানা গেলো, এই বিশ্বকাপের মধ্যে আর সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই তার। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ এখানেই শেষ হয়ে গেছে আন্দ্রে রাসেলের। তার বদলি হিসেবে ডাক পেয়েছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সুনীল অ্যাম্ব্রিস। যিনি কিছুদিন আগেই আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৮ রানের ইনিংস খেলেছেন।
রাসেলের অনেক আগে থেকেই হাঁটুর চোটের সমস্যা ছিলো। আর এই ইনজুরি সহনীয় করে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পথে বেশ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বল করছিলেন। বোঝা যাচ্ছিল, ব্যথাটা আবার ফিরে এসেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই ম্যাচটা ছিলো ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রাসেলের মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও খেলেছেন রাসেল। কিন্তু ব্যথাটা ভোগাচ্ছিল তাকে। ফলে দ্বিতীয় স্পেলে আর বল করতে পারেননি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ওই ব্যথা নিয়ে খেলেছেন। সে ম্যাচে দুই ওভারের বেশি বল করতে পারেননি। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে রীতিমতো কষ্ট করে হেঁটেছেন। ঐ অবস্থায় ৬ ওভার বল করে আর পারেননি। এরপর হাঁটুর ব্যথায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টারের ম্যাচটিতে নামতেই পারেননি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রাসেলের বদলি হিসেবে নেমেছিলেন কার্লোস ব্রাথওয়েট। আর এই ম্যাচে ব্রাথওয়েট অস্বাভাবিক এক সেঞ্চুরি করে দলকে প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন।
রাসেল ছিটকে যাওয়ায় দলে আসার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা ছিল কিয়েরন পোলার্ড বা ডোয়াইন ব্র্যাভোর। কিন্তু জায়গাটা নিয়ে নিয়েছেন অ্যাম্ব্রিস। অ্যাম্ব্রিস ওপেনিং করেও যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ। বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের সাথে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান স্কোরার ছিলেন এই অ্যাম্ব্রিস। চার ইনিংসে ৯২.৬৬ গড়ে ও ১০১.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ২৭৮ রান করেছিলেন তিনি।
অ্যাম্ব্রিসকে বিশ্বকাপে ডাক পেয়েই মাঠে নামতে হতে পারে। কারণ, এদিকে হ্যামাস্ট্রিং চোটে আছেন ওপেনার এভিন লুইস। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওভারেই চোট পেয়েছেন তিনি। এরপর লাফাতে লাফাতে মাঠ ছেড়েছেন লুইস। তিনি ৮ নম্বরে আবার ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু তিন বলে শূন্য রান করে আউট হয়ে যান।
