গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ফ্ল্যাট মালিক মিয়া মশিউজ্জামান। এতে বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে সংগঠনটির একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুরের অনুসারীরা দলটির কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছেন না।
যুব অধিকার পরিষদের খুলনা বিভাগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে খুলনা থেকে কার্যালয়ে এসে দেখি কার্যালয়ে তালা দেওয়া। কিছুক্ষণ পরে দেখি কয়েকজন লোক এসে কার্যালয়ে কলাপ সিলাপল গেইট লাগিয়ে দিয়েছে। এক পর্যায়ে তারা আমার মোবাইল নিয়ে গেছে। পরে আমাকে বের করে দেয়।’
এবিষয়ে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে মিয়া মশিউজ্জামান বলেন, ‘গত ১৭ মাস ধরে কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো মূল্য পরিশোধ করেনি।’ এই বলে তিনি রুমের ভেতরে চলে যান।
এদিকে কার্যালয়ে তালার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘কার্যালয়ের তালা ভেঙে কলাপসিবল গেট লাগিয়েছে। দল নিবন্ধনের সব ডকুমেন্টসহ জরুরি কাগজপত্র নিয়ে গেছে তারা।’ যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মশিউজ্জামান।
গত ৮ জুলাই ফ্ল্যাটটি ছেড়ে দিতে নুরুল হক নুরদের নোটিশ দেন মশিউজ্জামান। তারা তখন জানায়, চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাস আগে কার্যালয় ছাড়ার নোটিশ দিতে হবে। মশিউজ্জামান তা না করায় নুর, রাশেদরা কার্যালয় ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান।
এর মধ্যে গত ১০ জুলাই এ কার্যালয়ে নুরের অনুসারীরা দলের প্রথম কাউন্সিল অধিবেশনের আয়োজন করেন। এতে নুরুল হক নুর দলের একাংশের সভাপতি নির্বাচিত হন। রেজা কিবরিয়া অনুসারীরা ওই কাউন্সিল অধিবেশন বর্জন করেন।
এরপর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হয়, সেখানে ধাক্কাধাক্কি ও পরে তারেক রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠে নুরের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার নুরসহ তিনজনকে আসামি করে পল্টন থানায় মামলাও করেছেন তারেক। ওই হামলার পর গত ১৭ জুলাই গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন মিয়া মশিউজ্জামান।
