২২ বছর পর রায়

ডাকাতির সময় শ্বশুরকে গুলি করে হত্যা, জামাতাসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩, ১৮:২২

কক্সবাজারে ডাকাতি করতে ঢুকে প্রবাস ফেরত শ্বশুরকে গুলি করে হত্যার দায়ে জামাতাসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেকজনকে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। তা অনাদায়ী হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

একই মামলায় আনোয়ার হোসেন নামে অপর এক আসামিকে ডাকাতির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, তা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে থাকা মামলার অপর ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

ঘটনার ২৩ বছরের মাথায় এসে বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) বেলা ২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ মোশাররফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। এমনটি জানিয়েছেন ওই আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শওকত বেলাল। তিনি বলেন, একটি ডাকাতিসহ হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা আসামিরা হলেন-কক্সবাজার শহরের টেকনাইফ্যা পাহাড় এলাকার মুহাম্মদ হাছানের ছেলে ও ভিকটিমের মেয়ের জামাই মনজুর হোসেন, মৃত মুহাম্মদ কাছিম প্রকাশ কালাজুরীর ছেলে মুহাম্মদ আলম, পাহাড়তলী এলাকার মোহাম্মদ সৈয়দের ছেলে শহর মুল্লুক কালু, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকার এখলাছ মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কালুইন্যা, ভোলা চরফ্যাশন থানার নুরাবাদ এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে জসিম উদ্দিন (বর্তমানে কক্সবাজার শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়ায় বসবাসকারি), পাহাড়তলী এলাকার আব্দু শুক্করের ছেলে মোস্তাক, টেকনাইফ্যা পাহাড় এলাকার আমির হোছনের ছেলে আক্তার কামাল এবং সিটি কলেজ এলাকার গুরা মিয়ার ছেলে আমির হোছন।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-ওয়াহিদ মুরাদ, দিদারুল আলম দিদার, আবুল কালাম বরমাইয়া, আমিন, নুর মোহাম্মদ, রিয়াদ প্রকাশ দেলোয়ার প্রকাশ দুধুইয়া, শফিক প্রকাশ শফিক্কা, বকতিয়ার, আবদুর রহিম ও শফি। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাস পাওয়া আসামিরা পলাতক ছিলেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট শওকত বেলাল মামলার বরাতে বলেন, ২০০০ সালের ১৫ জুন কক্সবাজার শহরের রুমালিয়ারছড়ার বাঁচামিয়ারঘোণা এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে তার মেয়ের জামাই মনজুর আলমের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। এ সময় তারা মোহাম্মদ হোসেনের মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ সময় ডাকাত দল বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ছবুরা খাতুন বাদী হয়ে মনজুর আলমকে একমাত্র আসামি করে কক্সবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ১৮-২০ জনকে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ২০০৬ সালে ২৫ এপ্রিল মামলার চার্জ গঠন করে মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন  বিচারক।

এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে উল্লেখ করে আইনজীবী বেলাল আরও বলেন, রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট। তবে, এ রায়ে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দাবি করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে উল্লেখ করেন। 

ইত্তেফাক/এএএম