অটো-মাইক্রো সংঘর্ষে সিলেটে সাত জন নিহত

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৩, ০২:২৯

গতকাল সকালে সিলেটে অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে দুটি যানের চালকসহ সাত জন নিহত হয়েছেন। একই দিন দুপুরে রাজবাড়ী ও গাইবান্ধায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

সিলেট অফিস জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে ভোলাগঞ্জের খগাইল নামক স্থানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে সাত জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয় জনই অটোরিকশার আরোহী ছিলেন। আহত পাঁচ জনকে  হাসপাতালে ভর্তির পর আরো একজন মারা যান।

দুর্ঘটনায় দুটি যানের চালকই মারা গেছেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী জানান, ছয় জন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। আর পাঁচ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হলে পরে হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। নিহত সাত জনের মধ্যে চার জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: মো. ইদ্রিস আলী (৪০), কাজী আমির উদ্দিন (৫০), মো. কালন মিয়া ও তাহের। নিহত তাহের মাইক্রোবাসের চালক। তার বাড়ি ঢাকার রায়ের বাজারে। নিহত বাকি তিন জনের বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-৭৪৬২) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খগাইল এলাকায় পিয়াইনগুল কাজী কলিমুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে গাড়িটির সামনের ডানপাশের চাকা ফেটে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের তিন জন। মাইক্রোবাসে মানিকগঞ্জের আরো ১০ জন ছিলেন। তারা ভোরে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে পৌঁছে, ফজরের নামাজ আদায় করেন। পরে মাজার জিয়ারত করেন। সেখান থেকে ভোলাগঞ্জের পর্যটন স্পট সাদাপাথর এলাকায় রওনা দেন। মাইক্রোবাসের সকল যাত্রীই তখন ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাত্ বিকট শব্দ শুনতে পান আরিফুল ইসলাম। সামনের সিএনজি-অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে  পাশের খাল পড়ে যায় তাদের  মাইক্রোবাসটি।  মুহূর্তের মধ্যে বুঝতে পারেন তারা সড়কের পাশের খালের পানিতে পড়ে গেছেন। অন্যদের সহযোগিতায় তিনি মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে অন্য যাত্রীদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় আহত  আরিফুল ইসলাম, তার ভাই সোলেমান, আট বছর বয়সি ভাতিজা ও পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ বলেন, নিহত ব্যক্তিদের লাশ ওসমানী মেডিক্যাল মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শোক প্রকাশ: এদিকে মর্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনায় সাত জনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।

রাজবাড়ীতে গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীতে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক মো: সৈকতুজ্জামান শুভ গাজী (২৮) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের শ্রীপুর সমিল এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সৈকতুজ্জামান সদর উপজেলার বসন্তুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উদয়পুর গ্রামের জি এম এ মান্নান গাজীর ছেলে। সৈকতুজ্জামান শুভ কোলার হাটের একজন পাট ব্যবসায়ী ছিলেন।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত উদয়পুর গ্রামের মো. খোকন খলিফার ছেলে মো. রাজু খলিফাকে (২৬) প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিত্সার জন্য ফরিদপুর শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাজবাড়ীর আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গাড়িচালক পলাকত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী কেরামত আলী দুর্ঘটনায় নিহত যুবকের বাড়িতে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন ।

গোবিন্দগঞ্জে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে নাজমুল হাসান (১৯) নামে এক মোটরাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ২টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বকচর নামকস্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নাজমুল গোবিন্দগঞ্জের কামারদহ ইউনিয়নের বকচর এলাকার মেহেদী হাসানের পুত্র। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই চালক ট্রাকসহ পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ইত্তেফাক/এএইচপি