চরভদ্রাসন চরাঞ্চলের অসহায় দুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারের বরাদ্দ একমাত্র ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে গেছে।
২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর সিএমএসডি তেজগাঁও ঢাকা হতে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার হতে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স/ওয়ান বেড সেলাইন বোট দেওয়া হয়। সে সময় বোটটি হাসপাতালের পক্ষে গ্রহণ করেন তত্কালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান।
উপজেলার চরহরিরামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কে এম ওবায়দুল বাড়ি দিপু বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি আমার তত্ত্বাবধানে দেওয়া হলেও এর সঙ্গে কোনো চালক না দেওয়ার পাশাপাশি এর ইঞ্জিন খুবই দুর্বল হওয়ায় নদীপথে রোগী আনা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নির্বাচনে তিনি পরাজিত হওয়ার পর এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখেননি।
চরহরিরামপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আমির হোসেন খান বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর চরাঞ্চলের রোগী আনা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করতে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ জি এম বাদল আমিনকে অবগত করেও কোনো সুফল পাইনি।
উপজেলার চরশালেপুর গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা বেগম ও শেখ বদুরুদ্দিন বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য সরকারের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সটির কথা তারা জানতেনই না। তারা আক্ষেপ করে বলেন, চরে কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে ভ্যান অথবা তক্তা ও বাঁশ দিয়ে মাচা বানিয়ে ট্রলারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ট্রলারে নদী পার হতে দীর্ঘ সময় লাগে তাই অনেক সময় গর্ভবতী মায়ের নৌকাতেই সন্তান জন্ম হওয়ার পাশাপাশি সঠিক সময় হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন (ভিপি মোশা) বলেন, নদীপথে চরাঞ্চলের রোগী আনা নেওয়ার জন্য সরকারের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলায় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এটি যাদের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছিল এটি নষ্ট হওয়ার জন্য তারাই দায়ী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্সটি চরহরিরামপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে ঐ সময় হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের নির্ধারিত এলাকার বাইরে থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো খোঁজ রাখেনি। তাছাড়া হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগই সবকিছু তদারকি করে। এখন যেহেতু এটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, তাই এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পরামর্শ চেয়ে লিখিত আবেদন করবে বলে জানান তিনি।
