বগুড়ায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পাঁচ শতাধিক ছাত্রীর সাইকেল র্যালি

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০১

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে বগুড়া শহরে গতকাল শুক্রবার স্কুল কলেজের পাঁচ শতাধিক ছাত্রী সাইকেল র্যালি করেছে। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে বগুড়া জেলা পুলিশ প্রশাসন এই নারী সাইকেল র্যালির আয়োজন করেছে।  

শীতের সকাল না হতেই বগুড়া শহর ও শহরতলীর ৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নারী শিক্ষার্থীরা সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবন মাঠে জমায়েত হতে থাকে। ‘নারীর কথা শুনবে বিশ্বঃ কমলা রঙে নতুন দৃশ্য’ এই শ্লোগান নিয়ে কমলা রঙের টি শার্ট পরে কিশোরীরা নিজ নিজ সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় মাঠ চত্বর থেকে এই র্যালির উদ্বোধন উপলক্ষে এক সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ। পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদত্ আলম ঝুনুর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাজাহান আলী, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য শংকর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না, ইউএনএফপিএ এর কর্মকর্তা রুমানা পারভীন, কবি সিকতা কাজল, এনজিও কর্মী ফেরদৌসী আকতার রুনা প্রমুখ। 

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ পরিবার থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়ার কারণে আগের চেয়ে এখন নারী সহিংসতা কিছুটা কমে এসেছে। সভাপতির বক্তব্যে বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, পুণ্ড্রনগরী খ্যাত এই বগুড়া বিভিন্ন কারণে ইতিহাসের অংশ। আজ নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পাঁচ শতাধিক  নারী এক সঙ্গে সাইকেল র্যালি বের করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, আমার জানা মতে এটা দেশের সবচেয়ে বড় নারী সাইকেল র্যালি। তিনি বলেন, বগুড়া জেলায় নারীর প্রতি সহিংসতার যে কোনো ঘটনায় পুলিশ সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বগুড়া জেলায় এই সহিংসতা বন্ধ করা হবে।

পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে নারী সাইকেল র্যালিটি ব্যান্ড পার্টির বাজনার মধ্য দিয়ে সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে বগুড়া পুলিশ লাইন্স মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এই পাঁচ কিলোমিটার পথে রাস্তার দু’ধারে শতশত মানুষ র্যালির শিক্ষার্থীদের অভিবাদন জানায়। পুলিশ লাইন্স মাঠে শিক্ষার্থীরা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এক সাথে কাজ করার শপথ নেয়। এরপর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে। বিকেলে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।