মাদারীপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সদর হাসপাতালের ময়নাতদন্ত কেন্দ্র থাকায় আতঙ্ক আর পচা লাশের দুর্গন্ধে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পঁচা ও অর্ধগলিত লাশ এনে বাইরে রাখায় বাতাসে দুর্গন্ধের সঙ্গে ছড়াচ্ছে রোগজীবাণু। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসেই আতঙ্কে থাকে কোমলমতি শিশুরা। লাশকাটা ঘর অন্যত্র সরাতে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে মাদারীপুর পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে মাত্র ৮-১০ ফুট দূরত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় সদর হাসপাতালের ময়নাতদন্ত কেন্দ্র। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করেন। পাশে সদর হাসপাতালের ময়নাতদন্ত কেন্দ্র থাকায় ক্লাস চলাকালীন আতঙ্কে থাকছে কোমলমতি শিক্ষার্থী। এই লাশকাটা ঘরের পাশেই নার্সিং ইন্সটিটিউট। পঁচা বা অর্ধগলিত লাশ এনে বাইরে রাখায় ব্যাহত হচ্ছে তাদেরও শিক্ষা কার্যক্রম। লাশের দুর্গন্ধে প্রায়ই বন্ধ রাখা হয় পাঠদান। এছাড়া আবাসিক হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীরাও পড়েন চরম বিড়ম্বনায়। অনেকে ঘুমের মধ্যে আঁতকে ওঠে।
এছাড়া লাশকাটা ঘরের পাশেই নার্সিং ইন্সটিটিউট ও আবাসিক হোস্টেল। এই দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী। বার বার বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে জানালেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহরিন জারা জানায়, লাশের কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায়। জানালা বন্ধ করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। লাশের কারণে আমাদের ভয় করে।
নার্সিং ইন্সটিটিউট এর আবাসিক হোস্টেলের শিক্ষার্থী মাহমুদা খাতুন বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা ভোগান্তির শিকার হই। লাশের দুর্গন্ধে খাবার খেতে সমস্যা হয়। এছাড়া পাঠদানেও সমস্যা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বাচ্চু বলেন, কোমলমতি শিশুরা এই লাশ দেখে ভয় পায়। ক্লাস চলাকালীন সময়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে স্বজনদের কান্নাকাটি দেখে শিশুরা আরও আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। স্কুল প্রতিষ্ঠার পরে ময়নাতদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। আমি মনে করি এটি স্থাপনের আগে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিকল্পনার অভাব ছিল।
মাদারীপুর নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনচার্জ পারেছা খাতুন বলেন, বার বার বিষয়টিতে সমস্যার কথা লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ কেউ গ্রহণ করেনি। এটি দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরানো প্রয়োজন।
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এটি অপসারণের জন্য শীঘ্রই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিভিল সার্জন ডা. মুনীর আহম্মেদ খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ কখনো আমাকে এ ব্যাপারে কিছুই বলেনি। আর চাইলেই তো এটি অপসারণ সম্ভব নয়। তবু চেষ্টা করবো।
