এক দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ,পরদিনই রায়

ডাকাতির প্রস্তুতির মামলার বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করার নজির এক বিচারকের

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৩, ০৮:০০

ডাকাতি প্রস্তুতির এক মামলার বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার নজির গড়েছে ঢাকার এক আদালত। এক কার্যদিবসে সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে পরদিনই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ঐ রায়ে মামলার ছয় আসামির প্রত্যেককে দণ্ডবিধির দুটি ধারায় দুই বছর করে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুটি ধারায় দেওয়া দণ্ড একত্রে চলবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে দুই আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত মাসে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন এ রায় দেন।

প্রায় আড়াই বছর আগে করা এই মামলার ছয় আসামির মধ্যে চার আসামি পলাতক রয়েছেন। রায়ের পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও দণ্ডিত পলাতক চার আসামিকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফৌজদারি মামলার বিচার বিলম্বের নজির রয়েছে বিচার বিভাগে। সেখানে একটি ডাকাতির মামলায় এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করা খুবই আশাব্যঞ্জক। সাক্ষীদের যথাসময়ে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়েছে বলেই এত দ্রুততম সময়ে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন বিচারক। শুধু সাক্ষী গরহাজিরের অভাবে বছরের পর বছর মামলার বিচার ঝুলে থাকছে আদালতে।

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডাকাতির প্রস্তুতির গোপন সংবাদ পেয়ে ছয় জনকে হাতেনাতে আটক করে হাতিরঝিল থানার মহানগর প্রজেক্টসংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচে হাঙ্গেরি রেস্টুরেন্টের পূর্ব পার্শ্বে রাস্তার ওপর অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির গোয়েন্দা ইউনিটের তেজগাঁও জোনাল টিম। অভিযানকালে পুলিশ সদস্যদের দেখে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ছয় জনকে আটক করা হয়। এ সময় দুই-তিন জন পালিয়ে যান। আটককৃতদের দেহ তল্লাশি করে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেন যে, ডাকাতির প্রস্তুতি নিতেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন। এ ঘটনায় ঐ দিনই হাতিরঝিল থানায় মামলা করা হয়। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ছয় আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়।

মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে গত ৪ এপ্রিল মামলাটি বদলি হয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আসে। গত ১৮ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করে দেয় আদালত। ধার্যকৃত প্রথম দিনে অর্থাৎ গত ৬ জুন মামলার এজাহারকারী ও জব্দ তালিকার দুই জন সাধারণ সাক্ষী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাদের জেরা করেন আসামিদের আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বাকি সাক্ষীদের উপস্থাপন করা হবে না মর্মে আদালতকে জানালে সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয় আসামিদের। ঐ দিন আত্মপক্ষ সমর্থন করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় বক্তব্য রাখেন আসামিরা। পর দিনই অর্থাৎ ৭ জুন রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

রায়ে বলা হয়, মামলার সব আসামিকে একই সময়ে একই জায়গা থেকে ডাকাতির অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতিকালে আটক করা হয়েছে। দুই জন আসামি ছাড়া অন্য চার আসামির সবাই পেশাদার ও অভ্যাসগত অপরাধী। এদের অপরাধকর্ম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে নিবৃত্ত করা না হলে ভবিষ্যতে তারা রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেবে।

রায়ে দণ্ডিতরা হলেন—মো. সেলিম মিয়া, মো. আলামিন হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম রনি ওরফে ডিস্কো রনি, মো. রবিন হোসেন, মো. সান্টু মিয়া ও মাসুদ রানা।

চার আসামির বিরুদ্ধে ২৫ মামলা

দণ্ডিত আসামি রবিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, দণ্ডবিধি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন আইনে ১৪টি, ডিস্কো রনির বিরুদ্ধে ছয়টি, সান্টুর বিরুদ্ধে দুটি এবং মাসুদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম