হাসপাতালগুলোতে ভিড়

দক্ষিণাঞ্চলে বাড়ছে ডেঙ্গু

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৩, ০২:৩০

সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। বিশেষ করে বরিশাল নগরী ও পটুয়াখালী জেলায় এর প্রকোপ খুবই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। 

এদিকে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আবার হাসপাতালসহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তের জন্য ভিড় করছে মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিধনে বরিশাল সিটি করপোরেশন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। 

গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭৩ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বরিশালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য সূত্র জানায়, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ৬৪ জন। এছাড়া জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ৪০, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলায় ৫৩, ভোলায় ৪০, পিরোজপুরে ৩৯, বরগুনায় ২৫ ও ঝালকাঠিতে ১২ জন ভর্তি হয়েছেন। বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৩০ জন আর ছাড়পত্র নিয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ জন।

এদিকে ডেঙ্গু বৃদ্ধি পেলেও বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ জেলা ও উপজেলা পৌরসভার কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ। তারা বলছে, মশা নিধনের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাঁচটি টিম করে ৩০টি ওয়ার্ডে প্রতিনিয়ত স্প্রে ও ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশার ওষুধ দেওয়া হয়। এডিস মশার উপদ্রব বেশি হওয়ায় আমরা সকাল-বিকাল দুই বেলাই মশার ওষুধ দিই।

অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালসহ নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তের জন্য ভিড় করছে মানুষ।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ২১৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। জনবলসহ নানান সংকট থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছেন। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ সচেতন না হলে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো যাবে না। ডেঙ্গু নিরোধে সচেতনতাই প্রধান কাজ। আর বিভাগের সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া আছে যেন ডেঙ্গু রোগীদের অতি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম