মানিক মিয়া ছিলেন সংবাদপত্র জগতের নক্ষত্র

কামাল হোসেন আমাদের পক্ষে কাজ করেন

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ০০:৪০

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভাড়া করা নেতা ড. কামাল হোসেন আমাদের পক্ষেই কাজ করেন। এ কারণে মাঠ খালি হয়ে গিয়েছিল। ভুল সবই ভুল, তাদের জীবনের পাতায় পাতায় ভুল।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি বারবার ভুল করেছে। ২০১৪ সালে একবার ভুল করল। নির্বাচনে যাওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করল। চায়ের দাওয়াতে আসল না। হরতাল অবরোধ করে জ্বালাও পোড়াও করল। ভুল করেই যাচ্ছে। ২০১৪ সালে যখন ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম মনে করল ঠিক হয়েছে। আবার নির্বাচন আসল ২০১৮ সালে লোক ভাড়া করল।  কাকে করল? আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত নেতা। অত্যন্ত বিদগ্ধ শিক্ষিত মানুষ। এই শিক্ষিত মানুষকে ভাড়া করে সামনে দাঁড় করল? জিততে পারবেন? জিততে পারবে না। সে কি করল আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে মাঠ খালি করে দিল বিএনপি দিয়ে। আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে দিলাম। এই হচ্ছে ভাড়াটিয়া নেতার উপহার। ওরা ভাড়া করে ওদের জন্য, কাজ করল কামাল হোসেন আমাদের পক্ষে।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কেন ঋণখেলাপিদের ছাড় দেব? এটা হতে পারে না। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আরো বলেন, এই সংসদ হবে রাজনৈতিক নেতাদের সংসদ। যারা রক্ত দিয়ে ঘাম দিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাদের সংসদ হবে। ওই সকল ব্যবসায়ী যারা কোনো দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে নাই, কোনো দিন রাজপথে লড়াই করে নাই তারা আজ ব্যাংকের মালিক, তারা গার্মেন্টেসের মালিক, ওষুধ কোম্পানির মালিক এমনকি সংবাদপত্রের মালিক হয়ে দিনের পর দিন আমাদের উন্নয়নের বিরুদ্ধে লিখে যাচ্ছে। এরা কারা এদের সবাইকে চিনি। এরা হচ্ছে সুখের পায়রা। বিপদের সময় খুঁজে পাওয়া যাবে না। এক এগারোর সময় এরা ভোল বদল করেছিল, খুঁজে পাওয়া যায়নি। যখন বিএনপি-জামায়াত আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছিল তখন তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরা কিভাবে পত্রিকার মালিক হয়? মানিক মিয়া (ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া) ছিলেন সংবাদপত্র জগতের নক্ষত্র। আর এখনকার পত্রিকার দিকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া দিকে তাকিয়ে দেখেন নেত্রী লাইসেন্স দিল আর মিডিয়ার সময়মত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এরা দুই দিকেই সুবিধা নেয়।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিলে ঠিক হবে না। এমপিদের প্রাধান্য দিয়ে করতে হবে। আমরা হচ্ছি রাজনৈতিক সরকার। যে যত বড় আমলা সে তত ফাইল আটকে রাখে। আমলাতন্ত্রের মধ্যে কিছু আছে তারা দীর্ঘদিন সরকারকে বিব্রত করার জন্য সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য কাজ করছে। সারাদেশে ব্যাংকিং সেক্টর সচিবালয় সর্বত্রই জামায়াত-শিবির বসে আছে। এই স্বাধীনতাবিরোধী শত্রুরা শিকড় গেড়ে বসে আছে। তাই আমলাতন্ত্রের জটিলতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটা ফাইল বারবার আটকে রাখা হয়। হাজার কোটি টাকার বাজেট হবে সেটা বাস্তবায়ন হবে না এটা হয় না। এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না তাদের জবাবদিহি করতে হবে, সেই মন্ত্রণালয়কে জবাবদিহি করতে হবে। নাসিম বলেন, কষ্ট পাই আমাদের সরকারের আমলে ব্যাংক সেক্টর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেবের সময় থেকে বলা হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেল। ঋণখেলাপি হাজার কোটি টাকা লুট করে গেল। তাদের কেন ছাড় দেওয়া হলো। এই ঋণখেলাপিদের ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।