চলছে আষাঢ় মাস। হঠাত্ অঝোরে বৃষ্টি আবার হঠাত্ প্রখর রোদ। তাই এই সময়ে আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধুটি হলো ‘ছাতা’। সাথে একটি ছাতা থাকলেই নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন চলার পথে। অনেকে আবার ছাতা নিয়ে বের হওয়াকে সেকেলে মনে করেন কিংবা কারো কাছে আবার এটা ফ্যাশনের সাথে ‘যায় না’। একটু গোছালোভাবে বের হয়েছেন অথচ হাতে ছাতা, বিষয়টি মানতে পারে না অনেকেই। দ্বিধায় ভুগছেন কী করবেন! লিখেছেন শারমিন রহমান।
আষাঢ়-শ্রাবণ—এই দু’মাস বর্ষাকাল। কিন্তু এর প্রভাব থাকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত। বর্ষার আগমন রীতি যেমন বিচিত্র, তেমনি অভিনব। বছরের এই সময়ে আবহাওয়া এতটাই অনিশ্চিত থাকে যে ঠিক কখন আপনাকে রোদে পুড়তে হবে আর ঠিক কখন বৃষ্টিতে ভিজতে হবে সেটা আগে থেকে অনুমান করাটাই কষ্টকর। তবে রোদই হোক কিংবা বৃষ্টি, এই সময়ে আপনার সাথে যদি একখানা ছাতা থাকে তাহলে রোদ কিংবা বৃষ্টির কষ্ট অনেকটাই মোকাবেলা করা যায়।
অথচ মজার বিষয় হলেও সত্য যে, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগেও মানুষের বন্ধু হয়ে থাকা এই ছাতা নামের সামগ্রীটির জন্ম কিন্তু হয়েছিল আজ থেকেও প্রায় হাজার চারেক বছর আগে। তবে প্রাচীন সেই সময়ে ছাতার উপস্থিতি সম্পর্কে জানা গেলেও ঠিক কে কীভাবে তা আবিষ্কার করেছিলেন তা জানা যায় না। বরং ছাতা সম্পর্কে বেশ কিছু ইতিহাসের খোঁজ পাওয়া যায়, ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়।
ছাতার জগত্ এখন পুরোটাই রঙিন। যা আপনার স্মার্ট লুকটাকে বরং আরেকটু বাড়িয়ে দিতে পারে। ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখেই আপনি বেছে নিতে পারেন বাহারি ডিজাইনের বাহারি রঙের ছাতা।
নানা ডিজাইনের বাহারি রকম ছাতাগুলো এখন পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। আপনার পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন যেকোনো ছাতা। তবে রোদে কালো ছাতা ব্যবহার না করাই ভালো। রোদ-বর্ষা দুসময়েই ব্যবহার করা যায় রঙিন ছাতা।
বিশেষ করে মেয়েদের জন্য রয়েছে রঙের বৈচিত্র্যময় ছাতা। বর্ষার সাথে আকাশী নীলের একটা মিল রয়েছে। হালকা নীল রঙের ছাতায় সৌন্দর্য ভালোই ফুটে ওঠে। এছাড়াও লাল, সবুজ, হালকা কমলা, বেগুনি, বিভিন্ন প্রিন্টের, পাতার নকশা ইত্যাদি রঙের-ডিজাইনের ছাতাও ব্যবহার করতে পারেন। আর পোশাকের সাথে মিল রেখেও ছাতার রং বেছে নিতে পারেন। এতে করে আপনার ফ্যাশনেবল ‘লুকটা’ আলাদা মাত্রা পাবে।
শিশু-কিশোরদের জন্যও পাওয়া যাচ্ছে কার্টুন আঁকা ছাতা। সেই সাথে রয়েছে নানা আকৃতির ছাতা। লম্বা ডাটওয়ালা ছাতা ছাড়াও দেশি ভাজ করা ফোল্ডিং ছাতা রয়েছে। ছোট ও সহজে বহনযোগ্য ছাতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ছেলেরা ব্যবহার করতে পারেন গাঢ় সবুজ, চকলেট, ব্রাউন, নীল রঙের ছাতা। যারা একটু বয়স্ক তারা লম্বা ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। চওড়া হাতল ও ছাতার নিচের অংশে প্লাস্টিকের কাঁটাযুক্ত ক্যাপ থাকার ফলে এতে ভর দিয়েও চলাফেরা করতে পারবেন।
ছাতার দরদাম
বাজারে এখন দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের ছাতা পাওয়া যাচ্ছে। দেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে শরীফ ছাতা, রহমান, মুন, এটলাস, ফিলিপস, চেরী, ব্রার্দাস, মার্টিন, স্ট্যামফোর্ড বেশি বিক্রি হচ্ছে। লম্বা ডাট ওয়ালা ছাতা শুরু হয়েছে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে এবং ফোল্ডিং ছাতা পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। শিশুদের জন্য রঙিন ছাতার দাম ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
কোম্পানিভেদে নানা ডিজাইনের ছাতা পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। লেইস লাগানো ছাতা পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। এক রঙের ছেলেদের ছাতা পাবেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।
