বরিশালের বৃহত্ ছাগল উন্নয়ন ও হাঁসের খামারটি দীর্ঘ ৯ বছর যাবত্ বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের চাষি ও মাংস ব্যবসায়ীদের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ছাগল পালনের জন্য পাঁচ একর জমি এবং হাঁস পালনের জন্য চার একর মোট নয় একর জমিতে খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরিত্যক্ত থাকায় বর্তমানে খামারটি মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেখানকার ২৫টি স্থাপনার দামি যন্ত্রাংশ, ফিটিংস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ আসবাবপত্রের কোনো হদিস নেই। লুটপাট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগরের কাশিপুর চৌমাথা সংলগ্ন এলাকায় ২০০৫ সালে চার কোটি টাকা ব্যয়ে ছাগল ও হাঁসের এ খামারটির কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১০ সাল পর্যন্ত কৃষকদের মধ্যে ছাগল ও হাঁসের প্রজনন, বাচ্চা বিক্রিসহ পুষ্টি চাহিদা পূরণে পরিণত সাইজের হাঁস ও ছাগল খামারটিতে বিক্রি হতো। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে অদ্যবধি এটি পরিত্যক্ত হয়ে আছে। মেয়াদ শেষে প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর না হওয়ায় বছরের পর বছর ভুতুড়ে অবস্থায় পড়ে রয়েছে এটি। কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর খামারটিতে কি কি সম্পদ ছিল তারও কোনো হিসাব নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।
বরিশাল দুগ্ধ গবাদিপশু উন্নয়ন খামারের অ্যানিমেল প্রডাকশন অফিসার সুকান্ত কর বলেন, হাঁস ও ছাগলের খামারের মালামালের কোনো সিজার লিষ্ট করা হয়নি, এজন্য কি কি মাল খোয়া গেছে তা বলা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। খামারটি ছিল প্রকল্পভিত্তিক এবং প্রকল্পটি ২০১০ সালে শেষ হয়েছে। তিনি জানান, ছাগলের খামারটি পুনরায় চালুর কথা রয়েছে। তবে বর্তমানে জনবল সংকট থাকায় খামার পাহারা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
খামারটিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে মাদকসেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপের সরঞ্জাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে ফেলে সেখান দিয়েই দিনে-দুপুরে প্রবেশ করে এ সমস্ত কার্যকলাপ চালাচ্ছে মাদকসেবীরা। অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য সেখানকার পরিত্যক্ত ভবনগুলো মাদকসেবীরা ভাড়া দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ এলাকার আব্দুল মালেক হাওলাদার বলেন, খামারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন অল্পমূল্যে হাঁস ও হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করতে পারছি না। একইভাবে জাগুয়া ইউনিয়নের কৃষক কাশেম জানান, ছাগলের খামারটি দীর্ঘ ৯ বছর যাবত বন্ধ থাকায় ভাল জাতের কোনো ছাগল না পেয়ে ছাগল পালন ছেড়ে দিয়েছি। তাইতো এখানকার বাজারগুলোতে ছাগলের মাংসের চাহিদা পূরণ করতে নির্ভর করতে হয় উত্তরাঞ্চলের খামারিদের ওপর।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. নূরুল আলম জানান, আগামী অর্থবছরে ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কাশিপুরের ছাগল উন্নয়ন খামারটিতে নতুন করে জনবল নিয়োগ এবং ছাগল ক্রয় করে পুনরায় চালু করা হবে। এছাড়া হাঁসের খামারে অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হলে হাঁসের বাচ্চা পালন ইউনিট চালু করা যাবে।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. কানাই লাল স্বর্ণকার জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন, তাই এ খামারটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারছেন না। তবে প্রকল্পটি পুনরায় চালুর সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, খামারের স্থাপনাগুলো সংস্কার করে যেটুকু কাজে লাগানো যায় তা দিয়ে কেবলমাত্র ছাগল উন্নয়ন খামার চালু করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।‘
