বিএসএমএমইউতে প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ২৩:০৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট (প্রতিস্থাপন) সম্পন্ন হয়েছে। ২০ বছরের এক যুবকের লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন করেছেন সার্জনরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগকে সহায়তা করেছে হেপাটোবিলিয়ারি ও প্যানক্রিয়াটিক বিভাগ।

‘মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই।’ গর্ভধারিণী মায়েরা সন্তানের মঙ্গল কামনায় নিজের জীবনটাও বিলিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেন না। সন্তান অসুস্থ হলে মায়েরা সন্তানের শয্যাপাশে বসে বিনিদ্র রাত কাটান। কোনো চিকিত্সকের কাছে গেলে সন্তান সুস্থ হয়ে উঠবে তা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।

রিজিয়া খাতুন (ছদ্মনাম)। বয়স ৪৭। তার ২০ বছর বয়সী ছেলে পেশায় পেশকার। পাঁচ বছর ধরে পেটের পীড়ায় ভুগছেন। হঠাত্ একদিন পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি হয় ছেলেটি। তার রক্তবমি ও রক্ত পায়খানা হয়। পরীক্ষায় জন্ডিসও ধরা পড়ে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার একপর্যায়ে লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। এ খবরে ভেঙে পড়েন রিজিয়া খাতুন। আর্থিকভাবে সচ্ছল না হলেও চিকিত্সার জন্য ছেলেকে ভারতে নিয়ে যান রিজিয়া খাতুন। চিকিত্সকরা জানান, লিভার প্রতিস্থাপন করতে পারলে তার ছেলে সুস্থ হয়ে যাবে।      চিকিত্সকের কণ্ঠে এমন কথা শুনে মুহূর্তের জন্য খুশি হলেও যখন শোনেন অস্ত্রোপচার করতে এক কোটি টাকা লাগবে তখনই তার খুশি উবে যায়। আশাহত হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফিরে এসে শুনতে পান বিএসএমএমইউ’র হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারির নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জুলফিকার আলী খান তাকে বলেন, ছেলের জন্য লিভারের অংশ দানে রাজি আছেন কি না? রাজি থাকলে তার লিভারের অংশ নিয়ে ছেলের লিভারে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে। এ কথা শোনামাত্র বিনাবাক্যে রাজি হয়ে যান রিজিয়া খাতুন। শুনতে কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও ঘটনাটি সত্য। গত ১৫ জুন ২০ বছর বয়সী ছেলেকে হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ৬০ সদস্যের একটি চিকিত্সক দল সোমবার প্রায় ১৮ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করে মায়ের দেওয়া লিভার ছেলের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। বর্তমানে মা ও ছেলে পাশাপাশি বেডে নিউরোসার্জারি বিভাগের আইসিইউতে রয়েছেন। গতকাল বিএসএমএমইউয়ের মিল্টন হলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের পর মা ও ছেলের জ্ঞান ফিরেছে, কথা বলেছে। তারা আরো সাত দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন বলে জানান অধ্যাপক ডা. জুলফিকার আলী খান।

ঐ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান, ভারতের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ডা. পি বালা চন্দ্র মেনন প্রমুখ।